• জুন ২৪, ২০২২
  • লিড নিউস
  • 216
সিলেটে এখনও প্লাবিত বেশির ভাগ এলাকা, ধীর গতিতে পানি কমছে

নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে বন্যার পানি ধীরগতিতে নামছে। ফলে এখনও প্লাবিত জেলার বেশির ভাগ এলাকা। প্রায় ৯ দিন ধরে পানিবন্দি থাকায় বানভাসিদের দুর্ভোগ বাড়ছে বলে জানা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে মাত্র ১ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার কমেছে।

এদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ফলে জেলার কয়েকটি উপজেলায় পানি বাড়ছে, তবে নগরের বেশির ভাগ এলাকা থেকেই পানি নেমে গেছে। পানি কমলেও বন্যাকবলিতদের মধ্যে খাবার সংকটসহ নানা দুর্ভোগ বাড়ছে বলে জানা গেছে।

সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের রাজারগাঁওয়ের বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘পানি এক জায়াগায় আটকে আছে। বাড়ছেও না কমছেও না। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘরের ভেতর পানি। উদ্বাস্তু হয়ে আর কতদিন থাকা যায়।’

একই এলাকার রশীদ আলম বলেন, ‘পানি সহজে কমছে না, খাবার মিলছে না। জীবন অসহায় হয়ে পড়েছে।’

পানি একেবারে ধীরে নামছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং। তিনি বলেন, ‘পানি এক দিনে এক সেন্টিমিটারও কমছে না। পানি দ্রুত না কমায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তাদের পুনর্বাসনেও উদ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না।’

গত ১৫ জুন থেকে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। দুদিন পর থেকে তা ভয়ংকর রূপ নেয়। প্লাবিত হয় জেলার ৮০ শতাংশ এলাকা।

বন্যাজনিত কারণে ১৭ মে থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৪৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পাঁচ দিন ধরে ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করে, তবে সুরমা নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেটের পানি কমছে ধীরে, এখনও প্লাবিত বেশির ভাগ এলাকা

অন্যদিকে কুশিয়ারা অববাহিকায় পানি বাড়ছে। কুশিয়ারার পানি বাড়ায় জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সুমন নাগ বলেন, ‘আমাদের এখানে তিন দিন আগেও পানি ছিল না, কিন্তু এখন পানি বাড়ছে। বাজারে পানি ঢুকে অনেক দোকান তলিয়ে গেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘সিটি এলাকায় পানি প্রায় কমে গেলেও এখনও অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। বানভাসিদের বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ত্রাণসামগ্রী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।’