• জুন ২৯, ২০২২
  • জাতীয়
  • 80
‘দুষ্টু আমলাদের চাতুরিতে’ বিরক্ত মন্ত্রী মান্নান

নিউজ ডেস্কঃ আমলাতন্ত্রের ওপর ফের বিরক্তি প্রকাশ করলেন সাবেক আমলা পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বলেছেন, উপনিবেশিক আমলের নানা অপ্রয়োজনীয় বিধিবিধান পরিবর্তন করতে চেয়েও তারা পারছেন না দুষ্টু আমলাদের চাতুরির কারণে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বে থাকা কর্তা-ব্যক্তিদের প্রয়োজনের সময় স্ব-স্থানে খুঁজে পাওয়া যায় না বলে ক্ষোভ জানান মন্ত্রী। বলেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে যে নিয়ম কানুনগুলো আছে তা কঠোর নয়। এখন সময় এসেছে আইন কানুনের সংস্কারের। তবে সেগুলো পারা যাচ্ছে না।

বুধবার রাজধানীর লেক শোর হোটেলে ‘সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক গণ সংলাপে এমনটা জানান তিনি। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ, সিপিডি ও এশিয়া ফাউন্ডেশন এ সংলাপের আয়োজন করে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনের অনেক বিধি অপ্রয়োজনীয়। ব্রিটিশ, পাকিস্তানি ও সামরিক শাসকেরা এসব করেছেন, যার এখন কোনো বাস্তবতা নেই। কিন্তু অনেক দুষ্টু আমলা এসব বিধান চাতুরির সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছেন।

‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে এসব বদলানোর, তা সত্ত্বেও এসব পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। আইনকে আইন দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের অন্যতম লক্ষ্য জনগণকে তুষ্ট রাখা হলেও অনেক সময় আমলাতান্ত্রিক আইনের ধারার কারণে সম্ভব হচ্ছে না।’

প্রকল্প পরিচালকদের আচরণেও বিরক্ত পরিকল্পনামন্ত্রী। বলেন, ‘প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক। কিন্তু দেখা যায়, পঞ্চগড়ের কোনো প্রকল্পের পরিচালক ঢাকায় থাকছেন, এটা জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের কাছে কেউ থাকতে চাচ্ছে না। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীকে পাওয়া যায় না; তাদের নাটাই ঢাকায়, কিন্তু সুতা কাটা যাচ্ছে না।’

অবকাঠামোকে দেশের প্রাণ বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অবকাঠামো আমাদের মূল লক্ষ্য। এসব দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশবান্ধব হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

দেশের গ্রামীণ এলাকায় সড়কের নিচ দিয়ে আন্ডারপাস করার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান এম এ মান্নান। জানান, এর লক্ষ্য কৃষক যেন নির্বিঘ্নে গরু নিয়ে রাস্তা পার হতে পারে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এনামুল হক। প্যানেল আলোচক ছিলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রিজওয়ান রহমান, পলিসি এক্সচেঞ্জ অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •