• জুলাই ১৫, ২০২২
  • জাতীয়
  • 252
ফেসবুকে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগে নড়াইলে আবারও হামলা

নিউজ ডেস্কঃ নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে সাম্প্রদায়িক হামলার রেশ না কাটতেই লোহাগড়া উপজেলায় একই ধরনের ঘটনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ফেসবুকের পোস্টে ধর্মীয় অবমাননামূলক একটি মন্তব্য করা হয়েছে অভিযোগ তুলে শুক্রবার বিকেলে নড়াইলের লোহাগড়া থানার দিঘলিয়া গ্রামে আবারও সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও তার বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারান চন্দ্র পাল।

তিনি জানান, ওই শিক্ষার্থী ১৪ জুলাই ফেসবুকে একটি পোস্টের নিচে মন্তব্য করেন। পরদিন বিকেলে এলাকার মানুষজন তার বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা বাড়ির একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ওই গ্রামে তাৎক্ষণিক পুলিশের একাধিক ইউনিট এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পৌঁছান।

পুলিশের পরিদর্শক হারান চন্দ্র পাল বলেন, ‘যে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা নেভানো সম্ভব হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী ও তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত ১৮ জুন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মাকে সমর্থন করে এক হিন্দু শিক্ষার্থী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন- এমন অভিযোগ তুলে কলেজে পুলিশের সামনেই শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে অপদস্থ করা হয়। গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন স্বপন কুমার। মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে এ নিয়ে দিনভর চলে উত্তেজনা।

এরপর পুলিশ পাহারায় স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন একদল ব্যক্তি। শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দেশজুড়ে তৈরি হয় ক্ষোভ।

কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনার ৯ দিন পর গত ২৭ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপপরিদর্শক ও মির্জাপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোরছালিন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৭০ থেকে ১৮০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।