• জুলাই ২৭, ২০২২
  • জাতীয়
  • 219
জনশুমারিতে ভুল থাকতেই পারে: পরিকল্পনামন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ সম্প্রতি শেষ হওয়া জনশুমারিতে ভুল থাকতে পারে স্বীকার করে সেটি দেখিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বুধবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জনশুমারি সর্বোচ্চ গুরত্ব দিয়ে করা হয়েছে। তবু, আমাদের ভুল থাকতেই পারে। আপনারা সেটি দেখিয়ে দিন। আমরা সংশোধন করব।

মন্ত্রী বলেন, জনশুমারি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। এসব তথ্যের অনেক কমার্শিয়াল ভ্যালু আছে।

জনশুমারির তথ্যের প্রকৃতি নিয়ে তিনি বলেন, এবারের ডিজিটাল জনশুমারিতে ৪ লাখ অত্যাধুনিক ট্যাব ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমপক্ষে এইচএসসি পাশ, এমন কর্মীদের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সেখান থেকে মাত্র ৬৪টি ট্যাব নষ্ট হয়েছে বা ফেরত আসে নি। এটি একটি ম্যাজিক ফিগার।

এম এ মান্নান বলেন, আমার অফিসারদের আমি বলেছি, ১ মাসের মধ্যেই প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। তারা ঘাবড়ে গিয়েছিল। আমি বলেছি ‘লেট আস ট্রাই’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। প্রাথমিক প্রতিবেদন বিষয়ক উপস্থাপনা করেন প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আয়োজিত জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ আট কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন। নারী আট কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন। হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ আছেন ১২ হাজার ৬২৯ জন।
২০০১ সালে ছিল দেশে জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৩ জন। ১৯৯১ সালে ছিল ১০ কোটি ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২ জন। ১৯৮১ সালে ছিল ৮ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫ জন এবং ১৯৭৪ সালের প্রথম শুমারিতে দেশে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭১ জন।

শুমারির তথ্যানুযায়ী, দেশে জনসংখ্যার বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার কমছে। এবারের শুমারি অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২ শতাংশ। যা ২০১১ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ১.৪৬ শতাংশ, ২০০১ সালে ছিল ১.৫৮ শতাংশ, ১৯৯১ সালে ছিল ২.০১ শতাংশ, ১৯৮১ সালে ছিল ২.৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ শুমারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে।