• আগস্ট ১, ২০২২
  • জাতীয়
  • 193
চবিতে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিক্ষোভ: বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন

নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান না পেয়ে বিক্ষোভ করছেন পদবঞ্চিতরা। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর আগেই শাখা ছাত্রলীগের ‘চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার’ (সিএফসি) গ্রুপের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিএফসির একাংশের কর্মীরা তালা খুলে নিলে আরেক উপ-পক্ষ ‘বিজয়’ গ্রুপের অনুসারীরা রাত একটার দিকে আবার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। যা এখনো অব্যাহত আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া ছাড়াও শিক্ষার্থীদের আনানেয়ার কাজ করা শাটল ট্রেনটি আসতে বাধা দেওয়ায় সেটি ষোলশহর থেকে ছেড়ে আসেনি। বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনও। এর ফলে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছেন না। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা কমিটি পুনঃগঠনসহ তিন দফা দাবি জানায়।

২০১৯ সালে ১৪ জুলাই রেজাউল হককে সভাপতি ও ইকবাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। তিন বছর পর গতরাতে সংগঠনটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ৩৭৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন।

ঘোষিত কমিটিতে পদবাণিজ্য ও অছাত্রদের রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ করে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শাখা ছাত্রলীগের উপপক্ষ চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ারের একাংশের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে আবারও বিশ্ববিদ্যায়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা। সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ‘অবৈধ কমিটি, মানিনা মানব না, ‘টাকার বিনিময়ে কমিটি মানিনা মানব না’বলে স্লোগান দিচ্ছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের দাবি, যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে শুরু থেকে জড়িত ছিলেন নতুন কমিটিতে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে এ কমিটিতে বাইরের অনেকেই পদ পেয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি দুটি পক্ষে বিভক্ত৷ এক পক্ষ সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। আরেকটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। এই দুটি পক্ষের আবার ১১টি উপপক্ষ আছে৷ অবরোধের কারণে কয়েকটি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ মিছিল করছে। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বাস শহরে যেতে পারেনি। এমনকি শাটল ট্রেনও অবরোধ করা হয়েছে। যার কারণে কেউ-ই ক্লাস করতে বা করাতে আসতে পারেনি।’