• আগস্ট ২১, ২০২২
  • রাজনীতি
  • 232
অপদার্থ সরকার অন্য রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়: রিজভী

নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন সরকারকে অপদার্থ, অক্ষম আখ্যা দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই ধরনের একটি সরকারই বিদেশি রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়।

শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতকে অনুরোধ করার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতা এই মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের কেউ নয় বলে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান যে মন্তব্য করেছেন, তারও সমালোচনা করেন রিজভী। বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে এই বক্তব্য দেননি। তিনি তার পদ ব্যবহার করেই কথা বলেছেন।

রোববার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির মুখপাত্র।

কয়েক দিন ধরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। গত বৃহস্পতিবার তিনি চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর আয়োজনে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।’

এই বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে পরদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যিনি এ কথা বলেছেন সেটি তার ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। এটি আমাদের সরকারেরও বক্তব্য না, দলেরও বক্তব্য না। এই বক্তব্যের কারণে ভারতও লজ্জা পাবে।…‘কীভাবে আমরা এই কথা বলি! বন্ধু বন্ধু আছে। অহেতুক কথা বলে এটি নষ্ট করবেন না।’

তার পরদিন ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান দাবি করে বসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের কেউ নন। তাই তার বক্তব্যের দায় আওয়ামী লীগ নেবে না।

সেদিনই প্রকাশ পায় মোমেন আওয়ামী লীগের কমিটিতে আছেন। তিনি সিলেট আওয়ামী লীগের ১ নং সদস্য।

রিজভী বলেন, ‘একটা রাষ্ট্র কতটা অপদার্থ, অক্ষম ও জনবিচ্ছিন্ন হলে অন্য রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়! এরা বিদেশিদের পদলেহন করে ক্ষমতায় আছে, আবার এরাই গলাবাজি করে বলে ক্ষমতার জন্য অন্যরা বিদেশিদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছে।

‘এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকাকে বলে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে, ভারতকে বলে হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে, এটাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ।’

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘একটা বিষয় স্পষ্ট যে সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ করছে। বিগত নির্বাচনের আগেও ভারতের বহুল প্রচারিত আউটলুক সাময়িকীতে শিরোনাম ছিল-হাসিনাকে আরেকবার ক্ষমতায় আনার কৌশল চূড়ান্ত করছে ভারত সরকার।’

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের আসল উদ্দেশ্য সরকারে টিকে থাকার চেষ্টা বলেও মনে করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সেপ্টেম্বর ভারত যাচ্ছেন ক্ষমতায় থাকার ধরনা দিতে। আব্দুল মোমেন তার পটভূমি রচনা করে এসেছেন।

‘এখন আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা বলছেন সে আওয়ামী লীগের কেউ না। কিন্তু তিনি সিলেট মহানগর থেকে এমপি হয়েছেন কোন দলের টিকিটে? ওবায়দুল কাদের অনুমোদিত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১ নম্বর সদস্য কে? দেশবাসীসহ আমরা সকলেই জানি তিনি এ কে আব্দুল মোমেন।

‘আর তার সেই বক্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দেননি। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটি ব্যবহার করেই বক্তব্য দিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসংকোচ সত্য প্রকাশের পর দেশের জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে বিদেশি সরকারের মদদেই বর্তমান সরকার বিনা ভোটে জগদ্দল পাথরের মতো ক্ষমতায় বসে আছে, আগামীতেও তারা যে বিনা ভোটে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা পরিষ্কার করে বলেছেন।’

‘গুম, খুনের’ হোতাদের বিচার করতে দেশের মানুষ রাজপথে নেমেছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘মানবতাবিরোধী সরকারের পতন কেউ রুখতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জনগণের শত্রুতা তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন রিজভী। বলেন, ‘জনগণের ভোটের অধিকার, মানবাধিকার তারা স্বীকার করতে চান না। তাই তারা বিদেশিদের কাছে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে নিজেদের টিকে থাকার জন্য ভিক্ষার হাত প্রসারিত করেছে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।