• সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২
  • শীর্ষ খবর
  • 256
জামিন পাননি সুনামগঞ্জের ঝুমন দাশ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘উস্কানিমূলক’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার ঝুমন দাশ ওরফে আপনের (২৬) জামিন মঞ্জুর হয়নি। তাঁর আইনজীবী আজ রোববার আদালতে জামিন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেন।

ঝুমন দাশের আইনজীবী পঙ্কজ তালুকদার বলেন, ঝুমন দাশ গ্রেপ্তার হওয়ার ছয় দিনের মাথায় সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহানের আদালতে জামিন চাওয়া হয়। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেন।

ঝুমন দাশের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। শাল্লা থানার পুলিশ তাঁকে গত ৩০ আগস্ট দুপুরে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে শাল্লা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুমনুর রহমান বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরের দিন তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। ঝুমন দাশ এ দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে এর আগে একই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত বছরের ২২ মার্চ আরেকটি মামলা করেছিল পুলিশ। ওই মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। মামলাটি এখন সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে।

ঝুমন দাশকে গ্রেপ্তারের পর সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৮ আগস্ট বেলা তিনটায় ঝুমন দাশ নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি উস্কানিমূলক পোস্ট দেন। ওই পোস্ট ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করে এবং এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ঝুমন দাশ তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, ২৮ আগস্ট তাঁর ফেসবুক আইডিতে অন্য একজনের আইডি থেকে একটি পোস্ট আসে। তাতে সিরাজগঞ্জের একটি মন্দিরের গেটে একটি মসজিদের দানবাক্স লাগানো ছিল। এই পোস্ট পড়ে তিনি সেটি তাঁর আইডি থেকে শেয়ার করেন। পরে তিনি সেটি ‘অনলি মি’ করে ফেলেন। এরপর শুনতে পান, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৭ মার্চ সকালে ঝুমন দাশের গ্রাম নোয়াগাঁওয়ে হামলা হয়। হামলার ঘটনার আগে ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে আয়োজিত এক সমাবেশে হেফাজত নেতা মামুনুল বক্তব্য দেন। পরে মামুনুলকে নিয়ে নিজের ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেন বলে অভিযোগ ওঠে ঝুমনের বিরুদ্ধে। ১৬ মার্চ রাতে পুলিশ ঝুমনকে আটক করে। পরের দিন ১৭ মার্চ সকালে উপজেলার কাশিপুর, দিরাই উপজেলার নাসনি, সন্তোষপুর ও চণ্ডিপুর গ্রামের মানুষ লাটিসোঁটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালান।

এ ঘটনার পর শাল্লা থানায় তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়। অন্য মামলাটি হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। এই মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস জেল খাটার পর হাইকোর্ট থেকে এক বছরের জন্য ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জামিন পান।