• সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২
  • জাতীয়
  • 166
তিস্তা হয়নি, কুশিয়ারা হয়েছে, যা পেয়েছি খুশি: কাদের

নিউজ ডেস্কঃ ভারত সফরে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি না হলেও হতাশ নন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, তিস্তা না হলেও কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি হয়েছে। তার দাবি, বাংলাদেশ যা যা চেয়েছে, ভারত সবই দিয়েছে, যে কারণে তিনি খুশি।

এই সফর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালি হাতে ফিরছেন বলে এরই মধ্যে বিরোধীরা যে সমালোচনা করছেন, তার জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সাতটি সমঝোতা স্মারক, পাঁচটি চুক্তি হয়েছে। আমরা খালি হাতে ফিরে আসিনি।’

বুধবার সচিবালয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এ কথা জানান।

সোমবার চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী যান ভারতে। সফরের দ্বিতীয় দিন দেশটির সরকারপ্রধান নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে সাতটি বিষয়ে সমঝোতার কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তির বিষয়টি আবার আশা প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

যে চুক্তি ২০১১ সালে দেশটির সরকারপ্রধান মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরেই হওয়ার কথা ছিল, সেটি আরও ১১ বছরেও দেখল না আলোর মুখ।

আওয়ামী লীগের গত মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে ২০১৭ সালে শেখ হাসিনা যখন ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে যান, তখন মোদি বলেছিলেন বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের মেয়াদেই তিস্তা চুক্তি হবে। কিন্তু ওই সরকারের মেয়াদ শেষে এই চুক্তি হয়নি। আর এবারের সফরে যে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না, সেটি আগে থেকেই অনুমিত ছিল।

মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে অনেক অনিষ্পন্ন সমস্যার সমাধান ইতোমধ্যে করেছি। আমি আশা করি তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিসহ অন্য অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো শিগগিরই করতে পারব।’

‘আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানাই, আজকে আমরা কুশিয়ারা ইস্যু সমাধান করেছি এবং আমি আশাবাদী, মোট যে ৫৪টি নদী আছে, সেগুলো… আমি জানি, যতক্ষণ পর্যন্ত মোদি আছেন, বাংলাদেশ-ভারত আমরা সব সমস্যার সমাধান করে ফেলব।’

‘যা হয়েছে আমরা খুশি’

ভারত সফরে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে ওবায়দুল কাদের খুশি বলে জানান কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমি তো একটাতেই খুশি। আমার জনগণকে বাঁচাতে হবে। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় যা যা দরকার, যা যা আমরা চেয়েছি ভারত সবই দিয়েছে। হবে… কুশিয়ারা হয়েছে, তিস্তাও হবে। ভারত অস্বীকার করেনি আর শেখ হাসিনাও ভুলে যাননি তিস্তার কথা বলতে। আমরা ভুলে যাইনি।’

বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গার পানিবণ্টনের কথা তুলতে ভুলে যাওয়ার কথাও স্মরণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘বেগম জিয়া তো বারবার যাননি। একবার সফরে গিয়েও আমাদের আসল কথা পানি চুক্তির কথা বলতে… এয়ারপোর্টে সাংবাদিকদের সামনে বললেন, আমি তো ভুলেই গেছি। যারা এই ধরনের সেনসেটিভ ইস্যু ভুলে যায়! শেখ হাসিনা কিছু ভোলেন না। তিস্তা এবার হয়নি, কুশিয়ারা হয়েছে।’

তিস্তা নিয়ে কাদের বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের কিছুটা স্বার্থের ব্যাপার আছে, সেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতি হচ্ছে। আমি তো আশা করি অদূর ভবিষ্যতে সেটাও হবে। আপাতত যা পেয়েছি আমি মনে করি তা যথেষ্ট।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বিএনপির তো পুরোপুরি না পাওয়ার হতাশা। আমাদের না পাওয়ার হতাশা নেই। বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করেছি। ২১ বছর আপনারা দেয়াল তুলেছেন ভারতের সঙ্গে। সম্পর্কে সংশয় আর অবিশ্বাসের দেয়াল। সেই দেয়াল আমরা ভেঙে দিয়েছি।

‘সে জন্য সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময় হয়েছে, যেটা পৃথিবীর কোথাও হয়নি। না পাওয়ার হতাশা আপনাদের মধ্যে আছে। কারণ আপনারা ভুলেই যান আসল কথা বলতে। আমরা বন্ধুত্ব চাই। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে সব সমস্যার সমাধান হবে।’

‘কিছু মন্ত্রী দুর্বল, মন্ত্রিসভা নয়’

তৃণমূল থেকে উঠে আসার কারণে কিছু মন্ত্রী দুর্বল থাকলেও মন্ত্রিসভা দুর্বল নয় বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রিসভায় যারা আছেন, তাদের অনেকই তৃণমূল থেকে এসেছেন। বিভ্রান্তি থাকতে পারে বা দুর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু মন্ত্রিসভা দুর্বল নয়। কিছু কিছু দুর্বলতা আছে, মন্ত্রিসভা দুর্বল না। যেটুকু দুর্বলতা আছে এটা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কাভার করছেন। কাজেই আমাদের কোনো কাজ ঠেকে থাকছে না।’

মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের বিতর্কের ঝড় তোলা নানা মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, ‘আমার মনে হয় নিশ্চয়ই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টা দেখেন, তার এখতিয়ার, তিনি ভাবছেন। আপনারাও লেখালেখি করছেন। এগুলো তার দৃষ্টি এড়াচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। খোঁজখবর তিনি নিচ্ছেন। যখন দেশের স্বার্থে, দলের স্বার্থে বাস্তবতার নিরিখে যা করতে হয়, তিনি বিচার-বিশ্লেষণ করবেন, এটা তারই এখতিয়ার।’

রাজনীতিবিদের আবার বয়স কী

সরকারি চাকরিজীবীদের মতো রাজনৈতিকদের বয়সসীমার প্রয়োজন আছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে একজন মন্ত্রীর তো কোনো বয়স নেই। মুহিত সাহেব অর্থমন্ত্রী ছিলেন, ফাইনালি ৮০ বছর পার হওয়া পর্যন্ত ছিলেন। এখন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে এতদিন মন্ত্রী ছিলেন। রাজনীতির কোনো সময়সীমা থাকা উচিত নয়। যতক্ষণ আপনি সক্ষম থাকবেন এটা আপনার নিজের ওপর। যার যার নিজের ওপর নির্ভর করবে।

‘সে যদি মনে করে আমি ছেড়ে দিচ্ছি রিটায়ার্ডমেন্টে যাচ্ছি, এমন অভিমত প্রকাশ করে এবং আমাদের দল যদি মনে করে হ্যাঁ, যদি অবসরে যায় অসুবিধা নেই। অথবা তাকে ভিন্ন দায়িত্বে রাখা হয়। যেমন উপদেষ্টা, উপদেষ্টাদের তো এমন কোনো কাজ নেই। এটা সম্মানজনক পদ, এটা তাকে দেয়া হয়। একজন রাজনৈতিক নেতা সারা জীবন পলিটিকস করে জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছে। শেষ বয়সে এসে পলিটিকসটা যদি করার সুযোগ না থাকে, তাহলে তো মরার আগেই মরে যেতে হবে। করতে থাকুক যে যতক্ষণ পারুক করুক।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন আমার বয়সটা খুব বেশি হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির ব্যাপারে নেত্রী হচ্ছেন আমাদের পার্টির ঐক্যের প্রতীক।

‘আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের সেতু হিসেবে যারা কাজ করে, তাদের দক্ষতা বিচার-বিশ্লেষণ করে এই পদে নেত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। সেটা এবারের ব্যাপারেও বলতে পারি। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত।’

এ সময় তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরে নিয়মানুযায়ী আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করতে ৩৯ নাগরিকের বিবৃতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, ‘ইসির সঙ্গে সংলাপে আমরা ৩০০ আসনে ইভিএম চেয়েছি। গত নির্বাচনে চেয়েছি, এবারও আমরা বলেছি ৩০০ আসনে ইভিএম চাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই ঠিক।’