• সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২
  • শীর্ষ খবর
  • 194
সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট চলছে, ভোগান্তি যাত্রীরা

নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে পরিবহন শ্রমিকেরা পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। দূরপাল্লার কোনো যানবাহন সিলেট ছেড়ে যাচ্ছে না এবং অন্য এলাকা থেকেও সিলেটে কোনো যানবাহন আসছে না।

মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে পরিবহন শ্রমিকেরা পাঁচ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। এর আগে গত রোববার সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল।

পাঁচ দফা দাবি হলো সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার ও উপকমিশনারকে (ট্রাফিক) অপসারণ এবং ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধ, রেকার-বাণিজ্য ও মাত্রাতিরিক্ত জরিমানা বন্ধ করা, সিলেটে শ্রমিক লীগের নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানো শ্রম আদালতের প্রতিনিধি নাজমুল আলম ওরফে রোমেনকে প্রত্যাহার করা, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া, ভাঙাচোরা সড়ক দ্রুত সংস্কার, নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিক্রি বন্ধ ও বিক্রি করা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া।

আজ সকালে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে গণপরিবহন বা পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল নেই। সড়কের পাশে বাস থাকলে সেগুলোর কোনো ব্যস্ততা নেই। মূল সড়কগুলো ফাঁকা ছিল। তবে সড়কে ছিল পর্যাপ্ত যাত্রী। অনেকে ব্যাগ হাতে সড়কে দাড়িয়ে দূরপাল্লার যানের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

নগরের দক্ষিণ সুরমা এলাকা ছাড়াও নগরের ভেতরে যান চলাচল কম। মোটরসাইকেল ও রিকশা দেখা গেছে। মাঝেমধ্যে দুই–একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেখা গেলেও সংখ্যায় বেশ কম।

দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা মৌলভীবাজারের যাত্রী লোকমান হোসেন বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো যানবাহন পাচ্ছি না। কয়েক দিন পর পর পরিবহন শ্রমিক ও মালিকেরা ধর্মঘটের ডাক দেন। এতে অন্য কারও কিছু না হলেও যাত্রীদের হয়রানি এবং ভোগান্তির শিকার হতে হয়। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের কাছে যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।’

কদমতলী এলাকার বাসস্ট্যান্ডে আসা দুই যাত্রী বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে আসার আগে শুনেছি ধর্মঘট, কিন্তু চিন্তা করছিলাম বিকল্প কোনো বাহনে করে যাব। কিন্তু স্ট্যান্ডে এসে কোনো কিছুই পাচ্ছি না। এমন কী সিএনজিচালিত অটোরিকশাও দেখা যাচ্ছে না।’

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, পাঁচ দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকেরা স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে জেলার মধ্যে সব পরিবহন চলাচল বন্ধ আছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট চলবে। আগামীকাল বুধবার থেকে পুরো বিভাগে কর্মবিরতি পালন করা হবে।