• নভেম্বর ১২, ২০২২
  • লিড নিউস
  • 167
সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশ করতে প্রস্তুত হচ্ছে মঞ্চ

নিউজ ডেস্কঃ আগামী শনিবার (১৯ নভেম্বর) সিলেট বিভাগীয় গণসমাবেশ করবে বিএনপি। প্রস্তুত হচ্ছে মঞ্চ। পোস্টার-ব্যানারে সয়লাব শহরের রাজপথ ও অলিগলি। সমাবেশ ঘিরে নেতাকর্মীর মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

সিলেট নগরের আলীয়া মাদরাসা ময়দানে বিএনপির গণসমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। সরেজমিন দেখা গেছে, সমাবেশস্থলের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে সয়লাব হয়ে গেছে।

সমাবেশে অন্তত ৫ লাখ নেতাকর্মী-সমর্থক অংশ নেবে বলে আশা করছে শীর্ষ পদদধারীরা। কিন্তু গত ৬ নভেম্বর রাতে বিএনপি নেতা আফম কামাল হত্যার পর ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া মামলা নিয়ে গ্রেফতার আশঙ্কাও করছেন তারা।

তারা অভিযোগ করেছেন, সারা দেশেই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। গণ সমাবেশ হলে তারা গাড়ি বন্ধ করে দেয়। পথে পথে বাধা সৃষ্টি করে। এবারও তা হতে পারে। যা একটি রাজনৈতিক দলের অধিকার পরিপন্থী। আবার তারা আশাও করছেন, অন্যান্য বিভাগের মতো সিলেটেও গণসমাবেশ সফল হবে। অন্তত পাঁচ লাখ লোক হবে এ সমাবেশে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সমাবেশ সফলে আমরা ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। কেবল নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষেরও স্বতঃফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে সমাবেশে। শত প্রতিকূলতা এলেও নেতাকর্মীরা সমাবেশ সফল করবেন বলে আশাবাদী তিনি।

কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ১৯ তারিখ কেবল আলীয়া মাদরাসা ময়দানই নয়, পুরো সিলেট নগর সমাবেশস্থলে পরিণত হবে। গণসমাবেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কমিশনারকেও লিখিতভাবে অবহিত করেছি। যদিও অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। আশা করি নেতাকর্মীদের অহেতুক হয়রানী করা হবে না।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোসহ পরিবহন সেক্টরসহ সব মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি ধারণা করেন, সব শ্রেণি-পেশার
মানুষ জন দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিএনপির গণসমাবেশ সফল ভূমিকা রাখবেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী , এ বিভাগের গণসমাবেশ হবে ঐতিহাসিক। অন্তত ৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। গণসমাবেশ সফলে গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা চলছে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি সমাবেশের ব্যাপারে লিখিত দিয়েছেন বলে দাবি করলেও পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ সেটি পাননি বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় ক্রাইম কনফারেন্সে ছিলাম। বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে অবগতির কোনো চিঠি পাইনি। তারা চিঠি দিয়ে থাকলে আগামীকাল রোববার (১৩ নভেম্বর) দেখব।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শতাধিক অতিথির জন্য ৭০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে আলীয়া মাদরাসা ময়দানের পূর্ব প্রান্তে। মাঠের উঁচুনিচু স্তরে বালি ফেলে সমান্তরাল করা হয়েছে। আগামী ১৫ তারিখ মাঠ ও মঞ্চের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে। মঞ্চের সামনে ২০ ফুট জায়গা খালি রাখা হবে। সেখানে নারী নেত্রীদের জন্য থাকবে কয়েকশ চেয়ার পাশেই রাখা হবে গণমাধ্যমের জন্য সংরক্ষিত আসন। সমাবেশে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভলান্টিয়ার হিসেবে নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।

বিভাগীয় গণসমাবেশ সফলে নগর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সমাবেশ ঘিরে সাধারণ জনগণও সংহতি প্রকাশ করছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা তাই সিলেটে যাচ্ছে ঘন ঘন। দিচ্ছেন নানা দিক নির্দেশনা। তাই দীর্ঘদিন ধরে সিলেটে ব্যাকফুটে থাকা বিএনপিতে চাঙাভাব বিরাজ করছে।

আশার পাশাপাশি অভিযোগ আছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। শীর্ষ থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমাবেশের কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, গ্রেফতার, হয়রানি করা হচ্ছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান এ ব্যাপারে বলেন, অভিযোগ যা উঠেছে, তারপরও আমরা আশা করছি নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হবে না। গত ৬ নভেম্বর রাতে বিএনপি নেতা আফম কামাল হত্যার পর যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তল্লাশি, গ্রেফতার, হয়রানির বিষয়গুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই আমাদের সহযোগিতা করবে বলে বিশ্বাস করি।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগেই অঘোষিত ‘পরিবহণ ধর্মঘট’ দেখা গেছে। সিলেটে সমাবেশের আগেও একই ঘটনা ঘটবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল কবীরা পলাশ অবশ্য বলেছেন, ১৯ নভেম্বরের আগে সিলেটে কোনো ধরনের পরিবহণ ধর্মঘট বা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত হয়নি।