• এপ্রিল ৫, ২০২৩
  • আন্তর্জাতিক
  • 191
সরকারের সমালোচনা দেশদ্রোহ নয়: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সরকারের সমালোচনার অর্থ দেশদ্রোহ নয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ আজ বুধবার এক মামলার রায়ে এই মন্তব্য করে বলেন, সরকারের সমালোচনা করলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে কোনো সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া যায় না। সরকারের সমালোচনা দেশ বা রাষ্ট্রের সমালোচনা নয়।

জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, এই অভিযোগে কেরালার মালয়ালম ভাষায় সম্প্রচারিত টিভি চ্যানেল ‘মিডিয়া ওয়ান’-এর লাইসেন্স বাতিল করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রের নির্দেশ বহাল রেখেছিলেন কেরল হাইকোর্টও। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে জানিয়ে দেন, ওই চ্যানেল আবার চালু করতে কোনো অসুবিধা নেই।

প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি হিমা কোহলির বেঞ্চ ওই চ্যানেলের সম্প্রচার আবার চালুর নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের স্বার্থে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা জরুরি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে খাড়া করা ঠিক নয়। মানুষের অধিকার খর্ব করায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জিগির তোলা যায় না। এ ক্ষেত্রে অকারণে ওই যুক্তি খাড়া করা হয়েছে।

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) প্রণয়নের সমালোচনা করেছিল এই নিউজ চ্যানেল। ওই আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) তৈরিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন ও একে কেন্দ্র করে ২০২০ সালে দিল্লি দাঙ্গার খবর ব্যাপকভাবে সম্প্রচার করেছিল ওই চ্যানেল। সেই ‘অপরাধে’ কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ওই চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। কেন্দ্রের দাবি, ওই চ্যানেল ১৯৯৪ সালের ‘কেব্‌ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আইন’ ভঙ্গ করেছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন খবর সম্প্রচার করেছে। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তা বিপজ্জনক। কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্ত কেরল হাইকোর্ট বহাল রাখলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ আজ বুধবার কেন্দ্রের ওই নির্দেশ খারিজ করে বলেন, চ্যানেলটি দেশবিরোধী কাজকর্ম করেছে, রাষ্ট্রবিরোধী খবর সম্প্রচার করেছে, এমন কোনো প্রমাণ কেন্দ্রীয় সরকার দাখিল করতে পারেনি। সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণও দিতে পারেনি। তাদের সম্প্রচার দেশবিরোধী ও তাতে সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে, এই অভিযোগের পক্ষেও নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে পারেনি। এমন ভাসা ভাসা অনুমানের ওপর জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার দাবি মেনে নেওয়া যায় না।

প্রধান বিচারপতি এমন কথাও বলেন, গণমাধ্যম সব সময় সরকারকে সমর্থন করবে, সরকারের এই মনোভাব সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের স্বার্থে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম জরুরি। সরকারের সমালোচনা করে বলেই কোনো টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া যায় না।

কী কী কারণে ওই চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার তা ‘সিল করা খামে’ আদালতে পেশ করার অনুরোধ জানিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের কাছেও তা গোপন রাখা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের সেই দাবি মানেননি। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এতে আবেদনকারীর (চ্যানেল) অধিকার ভঙ্গ হয়। তাদের অন্ধকারে রাখা হবে। সব তদন্তের প্রতিবেদন গোপন রাখা যায় না। তাতে নাগরিকদের অধিকার খর্ব করা হয়।

কেন্দ্রীয় সরকার কেরল হাইকোর্টকে এভাবে সিল করা খামে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছিল। তার ভিত্তিতে কেরল হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল। কোন যুক্তিতে কেরল হাইকোর্ট তা করেছিল, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলেন। রাফাল মামলার সময় থেকে সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে সিল করা খামে বক্তব্য পেশের দাবি জানিয়ে আসছে।