• নভেম্বর ১০, ২০২৩
  • লিড নিউস
  • 253
সিকৃবিতে ‘পছন্দের লোক’ নিয়োগে অবরোধেই পরীক্ষা

নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে পছন্দের লোক নিয়োগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল গত ২৮ অক্টোবর। তখন পরীক্ষা গ্রহণের মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে স্থগিত করা হয়েছিল কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা। এবার সেই স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে চলমান অবরোধের সুযোগে।

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সিকৃবির ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল ও বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদ ভবনে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অবরোধে সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যখন বন্ধ রাখা হচ্ছে, তখন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার পছন্দের লোক নিয়োগ দিতেই এই পন্থা অবলম্বন করেছেন।

সিকৃবিতে পছন্দের লোক নিয়োগে গত ২৯ অক্টোবর দৈনিক খবরের কাগজে ‘২৮ অক্টোবরের সুযোগে সিকৃবির নিয়োগ পরীক্ষা!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। তখন অভিযোগ ছিল, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে নিয়োগ বন্ধ রাখা বাধ্যবাধকতায় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া নামকাওয়াস্তে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে পরীক্ষা নিয়েছিলেন। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। প্রথম উদ্দেশ্য সফল হওয়ায় এবার দ্বিতীয় দফায় অবরোধের সুযোগে তড়িঘড়ি করে বৃহস্পতিবারের নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা চলাকালে সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল দশটায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্টোর কিপার পদে ৬৫ জন ও সকাল সাড়ে ১১টায় সেকশন অফিসার পদে ১১৬ জনের পরীক্ষার জন্য সিকৃবির ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল ও বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদ ভবন-২ এর ৫ম তলার একটি রুমে আসন বিন্যাস করা হয়। এই ১৮১ জনের মধ্যে বেশকিছু পরীক্ষার্থী এসেছিলেন ঢাকা, কুষ্টিয়া, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। অবরোধ থাকায় কেউ কেউ আবার সিলেট চলে আসেন দুদিন আগে।

কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, অবরোধের কারণে বাস চলছে না। তাই ট্রেনে আসতে হয়েছে। এমনিতেই ট্রেনের টিকিট পাওয়া অনেক দুরূহ ব্যাপার। তার ওপর অবরোধের কারণে দূরপাল্লার বাস না চলায় ট্রেনের ওপর চাপ বেড়েছে। টিকিট পাওয়া আরও মুশকিল ছিল।

ঢাকা থেকে আসা এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘অবরোধের মধ্যেই আমাদের পরীক্ষার তারিখ জানানো হয়। তখন দেখলাম অবরোধের মাঝে এক দিন বিরতি আছে। তাই পরীক্ষার দুই দিন আগে সিলেটে চলে আসি। অবরোধের সময় পরীক্ষা না হলে আমার এই অতিরিক্ত খরচ হতো না।’

এদিকে, এই পদের পরীক্ষা নিয়ে শুরু থেকেই অনিয়মের কথা বলে আসছিলেন বহু আবেদনকারী। তাদের অভিযোগ, সিকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন এই পদগুলোতে নিয়োগ দিতে কয়েকজনকে কথা দিয়ে রেখেছেন। তাই অক্টোবরে হওয়া নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে পরবর্তী সময়ে নামমাত্র পরীক্ষা নিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার শঙ্কা করেছিলেন আবেদনকারীরা। এই অবরোধের সময় পরীক্ষা নেওয়ায় সেই শঙ্কা সত্যি হওয়ারই আভাস দিচ্ছে।

সুনামগঞ্জের শাল্লার এক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, পরীক্ষায় অংশ নিলেই নিশ্চিত চাকরি এমন নিশ্চয়তায় কিছু পরীক্ষার্থীকে দেখা গেছে। লিখিত নিয়োগ পরীক্ষার পর তারা মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে আসায় বোঝা গেছে, এদের সঙ্গে বোঝাপড়া আগেই হয়েছে। দুই দফায় পুরো নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে করা হয়েছে।

২৮ অক্টোবরের পর এবার অবরোধের মধ্যে কেন নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, জানতে সিকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার কার্যালয়ে গেলে তিনি কক্ষে থাকলেও এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। উপাচার্যের মোবাইলফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। উপাচার্যের সচিবালয়ে যোগাযোগ করলে তার একান্ত সচিব ড. সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষা যথাযথভাবে হচ্ছে। কারো কোনো অভিযোগ নেই।’ উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার জন্য স্যার অনেক ব্যস্ত। এখন কথা বলতে পারবেন না। রবিবারের পর যোগাযোগ করতে বলেছেন স্যার।’