• ডিসেম্বর ১, ২০২৩
  • লিড নিউস
  • 147
এবার আর নির্বিঘ্নে মিছিল করতে পারলেন না সাবেক মেয়র আরিফ

নিউজ ডেস্কঃ সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী এবার আর নির্বিঘ্নে মিছিল করতে পারলেন না। প্রহসনের নির্বাচন বাতিল ও বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী অবরোধ সফলের আহবানে বিএনপির একটি মিছিল তার নেতৃত্বে বের হয়। পুলিশের সাইরেন শুনে মিছিল গুটিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন সাবেক মেয়রসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে তিনটার দিকে সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থল এলাকা বন্দরবাজারে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের জন্য মিছিল গুটানোয় স্থানীয় রাজনীতিতে আরিফ আধিপত্যও বাধাগ্রস্ত বলে মনে করছেন অনেকেই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে তিনটার দিকে বন্দরবাজার জামে মসজিদের সম্মুখ থেকে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিলটি বের হয়। মিছিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা ছিলেন। প্রায় পাঁচ মিনিট চলা মিছিলটি বন্দরবাজার মোড় হয়ে করিমউল্লাহ মার্কেটের কাছে আসলে সিলেট কোতোয়ালি থানা থেকে কয়েকটি গাড়ি দিয়ে একদল পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে মিছিলের দিকে আসে। এ সময় বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী মিছিল বন্ধ করে ট্রাফিক আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পুলিশের সাইরেনের গাড়ির দিকে তিনি তাকিয়ে বলেন, ‘প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানব না-এ দাবিও জানানো যায় না! দৌঁড় না দিয়ে সবাই নিরাপদে সরে যান।’ এ বক্তব্য দিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

মিছিল গুটানোর সময়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো এলাকা কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি দলের নিয়ন্ত্রণে। ওসি সাংবাদিকদের জানান, গোলযোগ পরিস্থিতি এড়াতে আগাম সতর্কতায় পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। বন্দরবাজার থেকে কোর্ট পয়েন্ট পর্যন্ত পুলিশ অবস্থানকালীন বিএনপির কোনো নেতাকর্মীদের সেখানে আর দেখা যায়নি।

স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র পদ হস্তান্তর করেন গত ৭ নভেম্বর। ১০ দিন পর গত ১৮ নভেম্বর তিনি বিএনপিদলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একাত্ম হন। ১৮ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বিঘ্নে মিছিল করেছিলেন। ওই মিছিল করার তিন দিনের মাথায় নগরীর কুমারপাড়ায় তার বাসায় গত ২১ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ককটেল বিস্ফোরণকালে ভিডিওধারণ করায় ঘটনাটি এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। বাসায় ককটেল বিস্ফোরণের পর থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি এড়িয়ে চলছিলেন আরিফ। এ ঘটনার ৯ দিন পর শুক্রবার তাকে মিছিলে প্রথম দেখা গেছে।