• জানুয়ারি ৩০, ২০২৪
  • খেলাধুলা
  • 118
বিপিএল: সিলেটের টানা পঞ্চম হার

স্পোর্টস ডেস্ক: এবারের বিপিএলে যেন কোনোভাবেই পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পাচ্ছে না সিলেট স্ট্রাইকার্স। পাঁচ ম্যাচ খেলে পাঁচ ম্যাচেই হেরেছে সিলেট। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ফরচুন বরিশালের কাছে ৪৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে সিলেট।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ফরচুন বরিশালকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় সিলেট স্ট্রাইকার্স। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই সাজঘরে ফিরে যান বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ৮ বলে ২ রান করে দলের ১৪ রানের মাথায় আউট হন তামিম।

তবে তাতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি আরেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদের। ব্যাট হাতে এক প্রান্তে ঝড় তোলেন শেহজাদ। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান তুলতে থাকেন দ্রুতগতিতে। দলের বাকিরা ক্রিজে এসে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও শেহজাদ ছিলেন দারুণ সাবলীল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ফিফটিও ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।

বাকিদের মধ্যে প্রীতম কুমার আউট হন ৫ বলে ১ রান করে। এছাড়া ১৭ বলে ২০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য সরকার। শেহজাদও আউট হয়েছেন দলের ১০৮ রানের মাথায়। ৪১ বলে ৬৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি।

এরপর মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দলের হাল ধরেন। মুশফিক যদিও বেশি একটা সুবিধা করতে পারেননি। ১৯ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলে নাঈম হাসানের দুর্দান্ত এক ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।

শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে বড় সংগ্রহের দিকে এগোতে থাকে বরিশাল। বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছুটিয়ে রান তুলতে থাকেন রিয়াদ। সাথে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। ইনিংসের শেষ দিকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন রিয়াদ। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বরিশাল। ফিফটি হাঁকানো রিয়াদ অপরাজিত ছিলেন ২৪ বলে ৫১ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলে। এছাড়া ৬ বলে ১৫ রান করে ক্রিজে টিকে ছিলেন মিরাজ।

জবাব দিতে নেমে শুরুতে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ করেছে সিলেট। তবে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি সেই আক্রমণ। ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত সাজঘরে ফিরে যান ৭ বলে ৯ রান করে। আরেক ওপেনার শামসুর রহমান শুভও সুবিধা করতে পারেননি খুব একটা। ২৩ বলে ২৫ রান করে আউট হন তিনি। ২ উইকেট হারিয়ে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৪৪ রান তোলে সিলেট।

চারে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সিলেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৩ বলে ২ রান করে আউট হন তিনি। তবে তিনে নেমে ক্রিজে জমে যান জাকির হাসান। এখনও পর্যন্ত সিলেটের হয়ে টুর্নামেন্টে ভালো ফর্মে থাকা একমাত্র ক্রিকেটার জাকির। এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন তিনি।

মাশরাফির বিদায়ের পর জাকিরের সাথে যোগ দেন বেনি হাওয়েল। দুজনকে ব্যাট হাতে বেশ সাবলীল মনে হয়েছে। তাদের ব্যাটিংয়ের ফলে যেন কিছুটা দিশা ফিরে পায় সিলেটের ইনিংস। তবে লম্বা হয়নি জাকির-হাওয়েলের প্রতিরোধ। ফিফটির আগেই বিদায় নিয়েছেন জাকির, খেলেছেন ৩৪ বলে ৪৬ রানের ইনিংস। পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট হয়েছেন হাওয়েল, খেলেছেন ১৯ বলে ২৪ রানের ইনিংস।

এরপর যেন তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়তে শুরু করে সিলেটের ইনিংস। টানা দুই ওভারের প্রথম দুই বলে উইকেট হারায় তারা। ম্যাচ থেকেও ধীরে ধীরে ছিটকে যেতে থাকে সিলেট। শেষ দিকে আর কেউই তেমন লড়াই করতে পারেননি। টপাটপ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানের মধ্যেই অলআউট হয়ে যায় সিলেট। ৪ বলে ১২ রান করেন রেজাউর রহমান রাজা। ৪৯ রানের ব্যবধানে জিতেছে বরিশাল।

বরিশাল পেয়েছে সহজ জয়। বরিশালের হয়ে ৪ উইকেট নেন মোহাম্মদ ইমরান। ২টি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং খালেদ আহমেদ। এছাড়া ১ উইকেট তোলেন আকিফ জাভেদ।