• ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪
  • শীর্ষ খবর
  • 19
স্কোয়াশ চাষ: দুই বিঘা জমিতে আয় দুই লাখ টাকা

নিউজ ডেস্ক: কয়েক বছর আগে ছিলেন প্রবাসী। এখন পুরোদস্তুর একজন কৃষক। প্রতি মাসে কৃষিজমি থেকে তার আয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। বলছি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কৃষক জহির আলী।

একসময়ে জীবিকার তাগিদে পরিবার থেকে দূরে ছিলেন। প্রবাসের সেই হাড়ভাঙা খাটনিতে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে আসেন জহির। দেশে ফিরে তার ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ শুরু করেন। এরপর ইউটিউব এবং অনলাইনে বিভিন্ন উদ্যোক্তার ভিডিও দেখে তিনি নতুন সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হোন।

এই শীত মৌসুমে টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনের পাশাপাশি দুই বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেন। ৫০ হাজার টাকা খরচ করে স্কোয়াশ চাষ করে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা আয় করেছেন। আরও এক লাখ টাকার লাভ করবেন।

কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে স্কোয়াশ চাষ হচ্ছে। তবে সিলেটে এ বছর স্কোয়াশ চাষ করেছেন কৃষক জহির আলী। বারি স্কোয়াশ-১ একটি উচ্চফলনশীল জাত। স্কোয়াশ চাষের জন্য বেলে-দোআঁশ মাটি বেশ উপযুক্ত। শীতকালীন চাষাবাদের জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বীজ বপন করা হয়। তবে আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য অনেকে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরে জমিতে সরাসরি বীজ বপন করেন। বীজ বপনের ৪৫ দিনের মধ্যে ফসল আসে। ৫০ থেকে ৫২ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। একটি গাছ থেকে ১০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের রায়খাইল এলাকায় জহির আলী তার অনাবাদি জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি একদফা স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন। তার খেতের গাছগুলোয় আরও স্কোয়াশ রয়েছে। সেগুলো দুজন শ্রমিক পরিচর্যা করছেন। পাশে দাঁড়িয়ে তদারকি করছেন জহির উদ্দিন। তার জমির প্রতিটি স্কোয়াশের ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত।

কৃষক জহির আলী বলেন, ‘টাকা উপার্জন করার জন্য পরিবার থেকে দূরে প্রবাসে থেকেছি। দেশে এসে সবজি চাষ করে এখন তার চেয়ে বেশি টাকা উপার্জন করছি। আমার কিছু অনাবাদি জমিগুলোয় প্রথমে আলু, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজি চাষ করেছি।’

জহির আলী আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সফলতা লাভ করার পর চাষাবাদে আরও মনোযোগ দেই। এরপর ইউটিউব এবং অনলাইনে বিভিন্ন উদ্যোক্তার ভিডিও দেখে নতুন সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হই। গত বছর আমি সাম্মাম চাষ করি। সাম্মাম চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছি। তাই এবারও দুই বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষ করি। পর্যাপ্ত পরিমাণ ফলন পেয়েছি। স্কোয়াশ বিক্রি করে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা আয় করেছি। এখনো যে পরিমাণ স্কোয়াশ আছে তাতে আরও এক লাখ টাকা লাভ করতে পারব।’

পতিত অনাবাদি জমিতে চাষাবাদের সমস্যা নিয়ে জহির বলেন, ‘পতিত জমিতে চাষাবাদের প্রধান সমস্যা হলো পর্যাপ্ত পানি। আমাদের এখানে এখানে পানির সমস্যা আছে। এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না থাকায় চাষাবাদ করতে সমস্যা হচ্ছে। এখানে একটি ডিপটিউবয়েল বসানো গেলে আরও অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা যেত।’

সিলেট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্য জেলাতে স্কোয়াশ চাষ হয়েছে। কিন্তু সিলেটে হতো না। দক্ষিণ সুরমায় আমাদের একজন কৃষক নতুনভাবে শুরু করেছেন। নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্কোয়াশের যে আবাদ হচ্ছে তাতে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। এটি লাউ জাতীয় সবজি। সিলেটে লাউ ব্যাপক পরিমাণে চাষ হয়। তাই স্কোয়াশ চাষেরও ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। কৃষক জহির আলী উদ্যোগ দেখে অন্য কৃষকরাও বিভিন্ন প্রকারের অপ্রচলিত সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। আশা করছি আগামীতে স্কোয়াশের আবাদ আরও বাড়বে।’