• জুন ১৫, ২০২৪
  • শীর্ষ খবর
  • 26
এবার জকিগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে চিনি ছিনতাইয়ের অভিযোগ

জকিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার পর এবার জকিগঞ্জে চিনি ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেলে কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় ঘটে। তবে জানাজানি হয় শুক্রবার (১৪ জুন) রাতে। এগুলো ভারত থেকে চোরাই পথে আসা চিনি ছিলো বলে জানা গেছে।

চিনি ছিনতাইকাণ্ডে ছাত্রলীগের নাম উঠা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা চলছে। এ ঘটনার একটি সিসি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ৪ মিনিট এক সেকেন্ডের একটি ফুটেজে দেখা যায়- চিনি বোঝাই টমটম থেকে কয়েকজন মিলে চিনি ছিনতাই করছেন এবং চোরাকারবারীদের সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে হাতাহাতি হচ্ছে।’

তবে চিনি ছিনতাইয়ের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদ।

নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানান, কানাইঘাটের চোরাকারবারী আব্দুর রহিম ও ময়নুল হক বৃহস্পতিবার বিকেলে চারটি টমটম দিয়ে ভারতীয় চোরাই ৪০ বস্তা চিনি কালিগঞ্জ বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসার পথে উপজেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতাসহ ৮-১০ জন নেতাকর্মী কালিগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে টমটমটি আটকিয়ে চিনির বস্তাগুলো ছিনতাই করে নিয়ে যান। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি বিচার-বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু বৈঠকে ছাত্রলীগ নেতারা উপস্থিত হয়ে বিচার না মেনে উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে মানিকপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রায়হান জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা চিনি ছিনতাই করে নিয়েছেন স্বীকার করলেও বিচার না মেনে উল্টো তাদেরকে পারলে কেউ কিছু করে ফেলতো এই কথা বলে তারা চলে যায়। বিষয়টি তিনি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজকে জানিয়েছেন।

চোরাই চিনির মালিক কানাইঘাটের আব্দুর রহিম অভিযোগ করে জানান, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪০ বস্তা চিনি ছিনতাই করা হয়েছে। এ সময় মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে এখন ছিনতাই হওয়া চিনির বস্তাগুলো ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদ। শনিবার রাতে কালিগঞ্জ বাজারে গিয়ে তারা সুলতান আহমদের কাছ থেকে ফেরত আনবেন।

এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদ বলেন- তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। তিনি চিনি ছিনতাইর সাথে জড়িত নন। এ বিষয়ে তিনি কোনো কিছু জানেন না।

এ প্রসঙ্গে জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনাটি তিনিও শুনেছেন। ছাত্রলীগের কেউ পদ-পদবী নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চোরাকারবার যারা করে তারাও সমাজের শত্রু। কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক নয়।

জানতে চাইলে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।