- জানুয়ারি ৫, ২০২৬
- জাতীয়
- 2
নিউজ ডেস্কঃ মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী আপিল আবেদন বুথে তিনি আপিল দায়ের করেন। বিকেল ৫টা ৭ মিনিট পর্যন্ত মোট ৩৯টি আপিল জমা পড়েছে।
তাসনিম জারা বলেন, ‘আমি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি, যা গ্রহণ করা হয়নি। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি। মাত্র দেড়দিনের মধ্যে পাঁচ হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার জন্য সই দিয়েছেন এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। অনেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বুথে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।’
‘সমর্থকরা চান আমি যেন ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। তাই আপিল করেছি এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।’-যোগ করেন তিনি।
জারার আইনজীবী আরমান হোসেন বলেন, ‘আমরা আরপিও ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী আজ আপিল করেছি। আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা আশা রাখতে পারি যে এ আপিল আমাদের অনুকূলে হবে। আশা করছি, জনগণের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন জারা।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, আমরা ১ শতাংশ ভোটারের লিস্ট জমা দিয়েছি, যা শতভাগ সঠিক। যেসময়ে আমরা ভোটার লিস্ট সংগ্রহ করেছি, ইসির ওয়েবসাইট কাজ করছিল না, যার মাধ্যমে আমরা যাচাই করতে পারতাম যে যিনি সই দিয়েছেন, তিনি আদতে ঢাকা-৯ আসনের ভোটার কি না। সইয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ডে ভোটার এলাকা হিসেবে ঢাকা-৯ আসন উল্লেখ ছিল। যেহেতু তখন যাচাই করার সুযোগ ছিল না, সেখান থেকেই সমস্যাটি সমাধান করতে হচ্ছে।’
গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য ১ শতাংশ ভোটারের সই জমা দিতে হয়। তবে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের মধ্যে জারার জমা দেওয়া তালিকা থেকে দুজন ভোটারের তথ্যের গড়মিল পাওয়া যায়। যার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
আজ ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল আবেদন, যা ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন।
নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
