- আগস্ট ৩০, ২০২৫
- শীর্ষ খবর
- 4

নিউজ ডেস্কঃ সাদাপাথর ও জাফলং জিরো পয়েন্টের সৌন্দর্য ফেরাতে প্রশাসনের তৎপরতার মাঝেই গোয়াইনঘাটে ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। দিন-রাত নৌকা দিয়ে ড্রেজার, লিস্টার ও বোমা মেশিনে চলছে এ বালু লুট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের শুরুতে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলার কারণে এখন সবাই নিরব। সবচেয়ে বেশি বালু উত্তোলন হচ্ছে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজিপুর, উত্তর ও দক্ষিণ প্রতাপপুর এলাকার পিয়াইন নদী থেকে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র রাজনৈতিক তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন অন্তত ২০ লাখ ঘনফুট বালু তুলছে, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীর তীরবর্তী শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। আমবাড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ প্রতাপপুর এলাকায় প্রতিদিন অর্ধশতাধিক নৌকা ব্যবহার করে বালু উত্তোলন হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। এমনকি অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী পাহারা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমদ জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তিনি স্বীকার করেছেন-উত্তর ও দক্ষিণ প্রতাপপুর এলাকায় দিন-রাত বালু উত্তোলন হচ্ছে। অপরদিকে সদর ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকায় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে আরেকটি চক্র ড্রেজার মেশিনে বালু তোলায় নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন তীব্র হয়েছে।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সুমন বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা রোধে পরিষদের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার সদ্য বদলি হওয়া ওসি সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কেউ ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, ওই জায়গাগুলো ইজারা হয়নি। খবর পেলেই অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থান সিলগালা করা হয়েছে। তবুও কেউ বালু তুললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।