- এপ্রিল ২৬, ২০২৬
- লিড নিউস
- 38
নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে বেড়েছে গরমের তীব্রতা । এই গরমের সঙ্গে সমান তালে চলছে লোডশেডিং। আর এই গরম থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের মধ্যে রিচার্জেবল ফ্যান ও লাইটের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে রিচার্জেবল ব্যাটারির চাহিদা। এই বাড়তি চাহিদার কারণে বিক্রেতারা এসব ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে সিলেটে কিছুটা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত ছিল মেঘলা আকাশ। কিন্তু তারপরও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছিল আর সঙ্গে তো লোডশেডিং ছিলই। তাই রিচার্জেবল ফ্যান ও লাইটের চাহিদা এখনো উর্ধ্বমুখী। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, তার নিজ ইচ্ছায় ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম বৃদ্ধি করেননি। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে তাদেরকেও একটু বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ছিল। এবং শনিবার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬.২ মিলি মিটার।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সরজমিনে সিলেটের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, মহাজনপট্টি, আম্বরখানাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানে গিয়ে জানা যায়, সিলেটে রিচার্জেবল প্রতি পিস ফ্যান বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮৫০০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ৩০০০ টাকায়। রিচার্জেবল প্রতি পিস ফ্যানের দাম বেড়েছে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। নরমাল সিলিং ফ্যান বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩৫০০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ২২০০ টাকায়। এই ফ্যান প্রতি পিস ফ্যানের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এবং রিচার্জেবল প্রায় সব পণ্যেরই ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সিলেটের বাজারে। এছাড়া রিচার্জেবল লাইট ওয়াট ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা করে। পাশাপাশি রিচার্জেবল ফ্যানের জন্য ১২ ভোল্ট ব্যাটারি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকায় ।
নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা সতী দাস খবরের কাগজকে বলেন, সিলেটে লোডশেডিং অনেক বেশি বেড়েছে। ঘরে একটি চার্জিং ফ্যান আছে। কিন্তু বেশি লোডশেডিংয়ের কারণে একটি ফ্যানে কাভার হয় হচ্ছে না। তাই এবার আরেকটি চার্জিং ফ্যান কিনেছি এবং ৩টি রিচার্জেবল লাইটও কিনেছি। আগে এক রুমে শুধু রিচার্জেবল লাইট রেখেছিলাম। কিন্তু এখন তিন রুমে রিচার্জেবল লাইট দিতে হচ্ছে। তা না হলে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে বাচ্চাদের লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হয়।
নগরীর ফাজিলচিস্থ এলাকার সাইমুল আহমেদ বলেন, চার্জিং ফ্যানের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। গরম আর লোডশেডিং বাড়ার কারণে চার্জিং ফ্যানের চাহিদা বেড়েছে। তাই সুযোগবুঝে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ তারা জানে গরম থেকে বাঁচতে মানুষজন চার্জিং ফ্যান কিনবেই।
সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী এস আর ইলেকট্রনিকের পরিচালক রুহেল আহমদ বলেন, পাইকারি বাজারে রিচার্জেবল ফ্যান-লাইটের দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদেরও একটু বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরাতো নিজেদের লোকসান করে ব্যবসা করতে পারবো না। এখন কোম্পানির কাছ থেকে নগদ টাকা দিয়ে চার্জার ফ্যান পাওয়া যায় না।
