• মে ১৮, ২০২৬
  • শীর্ষ খবর
  • 43
 কোরবানির ঈদ সামনে রেখে শায়েস্তাগঞ্জে কামারদের কর্মব্যস্ততা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শায়েস্তাগঞ্জে একের পর এক হাতুড়ির আঘাতে টুংটাং শব্দ, আগুনে পুড়ে লাল হয়ে ওঠা লোহা ধীরে ধীরে নিচ্ছে নতুন আকার। এই ছন্দময় শব্দই জানান দিচ্ছে, সামনে কোরবানির ঈদ। আর এই ঈদকে কেন্দ্র করে টুংটাং আওয়াজে মুখরিত উপজেলার বিভিন্ন কামারশালা। মুসলিমরা প্রতি বছর আল্লাহ্‌কে রাজি-খুশি করার জন্য ঈদুল আজহায় গবাদিপশু কোরবানি করে থাকেন। কোরবানির মাংস কাটার জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন রকমের দরকারি উপকরণ সামগ্রী দা, বটি, ছুরি, চাপাতি সহ ইত্যাদি। আর মাত্র অল্প কিছুদিন বাকি আছে ঈদের।

তাই ক্রেতাদের কাছ থেকে কোরবানির মাংস কাটার উপকরণ সামগ্রীর অর্ডার নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ উপজেলার আনাচে-কানাচে থাকা কামাররা। একদিকে হাপরের অগ্নিশিখা অন্যদিকে, হাতুড়ির টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে গবাদিপশু জবাই এবং মাংস প্রস্তুত করার সরঞ্জাম। আসন্ন ঈদকে ঘিরে স্থানীয় কামারের পাশাপাশি বিভিন্ন হাট-বাজারে চোখে পড়ছে অস্থায়ী এবং ভ্রাম্যমাণ কামারের দোকান। দাউদনগর, ড্রাইবার বাজার, নিশাপট, সুতাং বাজার, বাজারের সজল কামার জানান, কোরবানির ঈদে পশু কাটার বিভিন্ন সরঞ্জামের অর্ডার নেয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর লোহা এবং কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্যের দামও একটু বেড়েছে, তাই ক্রেতারা পণ্য ক্রয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করছেন।

আরেক কারিগর খোকন কর্মকার জানান, এখন আমাদের তৈরি পশু জবাই করা উপকরণ বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের দোকানে এবং ভ্রাম্যমাণ ভ্যান গাড়িতে কিনতে পাওয়া যায়, তাই আগের তৈরিকৃত পণ্য নেয়ার জন্য ক্রেতা আসে না। বছরের ১১ মাস ঠিকমতো কাজ থাকে না, থাকলেও ঈদকে ঘিরে কাজের চাপ বেড়ে যায়। তবে অতিরিক্ত শ্রমিক বেশি টাকা বেতনে কাজে লাগাতে হয়। এজন্য বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময় লোহা ও সরঞ্জামের দাম একটু বেশি থাকে। শায়েস্তাগঞ্জ এলাকার ষসি কামারের দোকানে ছুরি অর্ডার দিতে আসা রমজান ও সফিক বলেন, গত ঈদেও এখান থেকে ছুরি আর চাপাতি কিনেছিলাম।

কিন্তু একদিন ব্যবহারের পর সেগুলো কোথায় আছে খুঁজে পাই না, যদিও একটি ঘরে পেয়েছি তাও আবার মাটিতে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এ বছর আবারো অর্ডার দিতে এসেছি। চার-পাঁচদিন পর এসে নিয়ে যাবো। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম একটু বেশি। সরজমিন বিভিন্ন কর্মকারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় ছুরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪শ’ টাকা, চাপাতি ৯শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। এবং ছোট ছুরি, দা, বটি ইত্যাদি ৫শ’ টাকা কেজি দরে তারা বিক্রি করছেন।