• অক্টোবর ১০, ২০২৬
  • মৌলভীবাজার
  • 1
মৌলভীবাজারে ১ হাজার ২২ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মৌলভীবাজার জেলার ১ হাজার ২২ টি পূজা মণ্ডপে চলছে দেবী বরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঢাক, ঢোল, শঙ্খ আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীদুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সনাতনী ভক্তরা।

জানা গেছে, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল অনুষ্ঠান। ২১ অক্টোবর বুধবার দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। চলতি বছর মৌলভীবাজার জেলায় এবার ১ হাজার ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। ইতোমধ্যে জেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপ এই উৎসব ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সজ্জায় ব্যস্ত নিয়োজিত কর্মীরা। কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি, রামকৃষ্ণ মিশন, দুর্গাবাড়ীসহ সৈয়ারপুরের ত্রিণয়নী ও আবাহন এবং গীর্জাপাড়ার মহেশ্বরীতে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রতিমা শিল্পীর সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দেবীদুর্গার পূর্ণ অবয়ব দিয়ে যাচ্ছেন তারা একাগ্রচিত্তে।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলায় এবার সার্বজনীন ৮শত ৯৮টি এবং ব্যক্তিগত ১শত ২৪টি সহ মোট ১ হাজার ২২টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদরে ১১১টি, বড়লেখায় ১৪৬টি, জুড়িতে ৭৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, রাজনগরে ১৩৬টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি ও শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা শহরের আবাহন পূজা মণ্ডপের সভাপতি সন্তোষ কান্তি দাশ বলেন, প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। এবার আমাদের থিমের সঙ্গে মিলিয়ে আলাদা প্রায় ২৫ জন দেবদেবী নিয়ে আমাদের মণ্ডপ সাজানো হবে।

কমলগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ বলেন, সব জায়গায় শেষ সময়ের চলছে পূজার প্রস্তুতি।
প্রতিটি পূজা মণ্ডপ সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আয়োজকেরা বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পূজা উপলক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মহিম দে বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রস্তুতি। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধসহ পূজা-পূর্ববর্তী, পূজাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে করণীয় ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা কর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পূজা মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।