- অক্টোবর ১০, ২০২৬
- শীর্ষ খবর
- 1
হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে ৬ মিনিট সময় নেয় না। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের নিউ ফিল্ড মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলছি- তোমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করো। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেশের প্রতিটি রাজনীতিক দল এবং জাতির সঙ্গে ধৃত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার করো। বাংলাদেশ থেকে বৈষম্যের পথ বন্ধ করো। ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ করো। ৫ বছর পর্যন্ত আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন করবো না।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যের পথ বন্ধ না করলে, ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে আমরা আন্দোলন থামাব না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ভিনদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলবে। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।
গণভোট যদি অবৈধ হয় তবে বিএনপির সরকারও অবৈধ সরকার উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, সরকার সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নিলো কিন্তু গণভোটের শপথ তারা নিলো না। অথচ দুই নির্বাচন একসঙ্গে হয়েছে, একই দিনে হয়েছে, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে হয়েছে এবং একই সঙ্গে দুই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলাফলে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভোট পেয়েছে ৫০ পারসেন্ট আর গণভোটে হ্যাঁ ভোট পেয়েছে ৭০ পারসেন্ট। এখন ক্ষমতায় গিয়ে সরকারের মুখপাত্র বলেন গণভোট বৈধ না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। অন্তবর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ ৯ মাস ৩৩টি রাজনীতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্যের কমিশনে ৮৩টি ম্যারাথন অধিবেশন আমাদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছে।
খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল মূলত দুটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। প্রথমটি হলো বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া, যেখানে আগামী প্রজন্মের সন্তানেরা মেধার ভিত্তিতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরি পাবে। কোটা, সিলেকশন কিংবা সরকারি দলের চামচামি ও গুন্ডামির বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ বৈষম্যহীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত করা, যাতে নতুন করে আর কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়। বৈষম্যহীন দেশ গড়া এবং ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করার লক্ষ্যেই জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। এ সনদে দেশে কীভাবে বৈষম্য সৃষ্টি হয় এবং কীভাবে ফ্যাসিবাদের জন্ম নেয়, সেই পথগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এভাবেই সব রাজনৈতিক দল ও পক্ষ মিলে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছে।
মামুনুল হক বলেন, আমাদেরকে বলা হয়- সরকার ক্ষমতায় এসেছে অল্প কয়েকদিন হল, সরকারকে সময় দেন। তারপর সরকার ভাল কাজ না করলে তারপর আন্দোলন করেন। আমরাও বলি আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই। সরকারকে ১ বছর না ৫ বছর সময় দিতে চাই। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার আমাদের এত খায়েশ ছিল না। আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। বছরের পর বছর কারাগারে অন্ধকারে অবরুদ্ধ থেকেছি। আমরাও মনে করেছিলাম আমরা কিছুদিন বিশ্রাম করার সুযোগ পাবো।
তিনি আরও বলেন, এত রক্ত, এত জীবন, এত কান্না, এত হাহাকার, এত আর্তনাদ-এসব কিছু একটি ফ্যাসিবাদী সরকারকে বিদায় করে নতুন আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়ার জন্য হয়নি। শহীদ শরীফ ওসমান হাদিরা এ জন্য রক্ত দেননি। আজ শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে সারাদেশে ইনসাফ মার্চ করতে হয়। শহীদ হাদিদের রক্তের বদলা নিতে সরকারের কাছে ধরনা দিতে হয়। অথচ ওসমান হাদিরা যদি রক্ত না দিতেন, জুলাই যোদ্ধারা যদি জীবন না দিতেন, তাহলে লন্ডন থেকে বাংলাদেশের প্লেনের টিকিট কাটা হতো না। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলছি, সংবিধান সংস্কারের যে অঙ্গীকার ছিল, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানে স্থায়ী পরিবর্তন আনার যে অঙ্গীকার ছিল, তা বাস্তবায়ন না করলে বিএনপি ইতিহাসে গাদ্দার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরী সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমদ সাদিকের পরিচালনায় এ নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহা-সচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাঈদ, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
