• জানুয়ারি ২৫, ২০২৩
  • জাতীয়
  • 43
জরিপের ফল দেখে নৌকার মনোনয়ন

নিউজ ডেস্কঃ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্ন সংসদ সদস্যরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না। দেশি-বিদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমপিদের কর্মকাণ্ড ও এলাকায় তাদের ভূমিকা জরিপ চলছে। সবগুলো জরিপ রিপোর্ট সমন্বয় করেই নৌকার মনোনয়ন দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। সংসদীয় দলের ১২ জানুয়ারির বৈঠকে তিনি জরিপের উল্লেখ করে এমপিদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এর ভিত্তিতেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে।

শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

জানা গেছে, বিদেশি একটি শক্তিশালী জরিপ প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি দেশীয় গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনী এলাকায় তাদের ভূমিকা জরিপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে।

এসব জরিপ এখনও চলমান এবং আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে সব জরিপ রিপোর্ট সমন্বয় করে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের ১২ জানুয়ারির ওই বৈঠকে দলের সভাপতি বলেন, ‘আমার কাছে সার্ভে রিপোর্ট রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী যারা ভালো কাজ করেছেন, যারা জনগণের কাছে যান, আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কথা বলেন, ভোট চান, জনগণের সুযোগ-সুবিধা দেখেন এবং জনগণ যাদেরকে চায়, তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হবে। আর যারা জনবিচ্ছিন্ন, এলাকার লোকজনের সঙ্গে যাদের সুসম্পর্ক নেই, এলাকায় যান না— তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হবে না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমপিদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা নির্বাচনী এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন এবং নেতাকর্মীদের দূরে ঠেলে নিজস্ব বলয় বা পারিবারিক বলয় গড়েছেন। কেউ কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছেন ও জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন।

অনেকে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড করেছেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এদের অনেকেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিট পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ অথবা জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন বোর্ডে প্রার্থীর যোগ্যতা, সক্ষমতা, জনপ্রিয়তা দেখা হয়।

‘জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে কখনও কম আবার কখনও বেশি আসনে পরিবর্তন হয়েছে। গত ২০ বছরের পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যাবে গড়পড়তা প্রতিবারই একশ’র মতো এমপি বাদ পড়েছেন। আর এবার জরিপ রিপোর্টে যাদের সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য আসবে তাদের অধিকাংশই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের এই মেয়াদের গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেশ কিছু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, দলীয় কোন্দল, টেন্ডারবাজি, বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেয়া, নিজস্ব বলয় তৈরি করা, নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, খুনোখুনি, জমি দখল, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দেয়া, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দুর্নীতি ও অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে গণমাধ্যমেও খবরের শিরোনাম হয়েছেন তারা। অনেককে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত হয়েছে বা হচ্ছে। বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে পুরো জাতির বিরাগভাজনও হয়েছেন কেউ কেউ।

দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্তের আওতায় আসা এমপিদের মধ্যে রয়েছেন- অসীম কুমার উকিল, হাজী সেলিম, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সামশুল হক চৌধুরী, ওমর ফারুক চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান মিতা, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু, পঙ্কজ দেবনাথ, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব প্রমুখ।

এক চিত্রনায়িকাকে উদ্দেশ করে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বলা অশ্লীল কথাবার্তাও জনসম্মুখে এসেছে।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা ও জোরপূর্বক জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. হাবীবে মিল্লাতের বিরুদ্ধে দলে অভ্যন্তরীণ বিবাদ সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। তার শ্বশুর সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন স্বজনপ্রীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ইতোমধ্যে দলের পদ হারিয়েছেন। দেশও ছেড়েছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহর কাছে আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের এখনও বছরখানেক বাকি। জরিপ হচ্ছে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন- যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন তারা ভবিষ্যতে শুধু দলীয় মনোনয়নই নয়, দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেও থাকতে পারবেন না।

‘দলীয় প্রধানের এটি শুধু তার কথার কথা নয়। অতীতে তিনি এর প্রমাণও রেখেছেন। কাজেই অনেক মনোনয়ন পরিবর্তন হবে সেটা বলা যায়। তবে পরিবর্তনের মাত্রাটা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •