- ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
- শীর্ষ খবর
- 76
নিউজ ডেস্কঃ ইফতারের ১৫ মিনিট আগে সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার এলাকার পুলিশ লাইনসের পাশের ফুটপাতে মাদুর বিছিয়ে দেন এক দল তরুণ। সেই সঙ্গে পাশের দেয়ালে সাঁটিয়ে দেন ‘সরাইখানা’ লেখা ব্যানার। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইকে একজন স্বেচ্ছাসেবক বলতে শুরু করেন, ‘পুলিশ লাইনসের রাস্তার পাশে আমাদের মাদুর বিছানো আছে। আপনারা যারা রোজা আছেন, আমাদের সঙ্গে ইফতার করতে পারবেন।’ এরপর ধীরে ধীরে মানুষজন এসে বসতে শুরু করেন। যারা এলেন তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষজন। বেশির ভাগই ছিলেন রিকশাচালক।
সেভ সিলেট নামক একটি সামাজিক সংগঠনের প্রজেক্ট ‘সরাইখানা’। এ প্রজেক্টের মাধ্যমে পথচারী ও অসহায় মানুষের জন্য রমজানজুড়ে বিনামূল্যে ইফতার ও সাহরির আয়োজন করা হয়। ছয় বছর ধরে সিলেট নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শুরু করে উপজেলাগুলোতেও ‘সরাইখানা’ এই বিনামূল্যে ইফতার ও সাহরি খাওয়ানোর কার্যক্রম করে যাচ্ছে। গত শনিবার ‘সরাইখানা’ ইফতারের আয়োজন করে সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায়। এই ইফতারে অংশ নেন শতাধিক রিকশাচালক ও পথচারী।
আয়োজকরা জানান, প্রথম রমজানে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় শহিদ মিনারের সামনের ফুটপাতে ‘সরাইখানা’ ইফতারের আয়োজন করে। দ্বিতীয় রমজানে চৌহাট্টা এলাকায় আলিয়া মাদ্রাসার সামনের ফুটপাতে ইফতারের আয়োজন করা হয়। তৃতীয় রমজানে নগরীর রিকাবীবাজার এলাকার পুলিশ লাইনসের পাশের ফুটপাতে ও চতুর্থ রমজানে সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় এই ইফতারের আয়োজন করা হয়। পর্যায়ক্রমে সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে ‘সরাইখানা’র ইফতার কার্যক্রম চলবে। এ বছর সিলেট বিভাগের এক লাখ মানুষকে মাঝে ইফতার খাওয়ানোর টার্গেট সেইভ সিলেটের।
শনিবার রিকাবীবাজার এলাকায় ‘সরাইখানা’য় ইফতার করতে আসা রিকশাচালক সুহেল মিয়া বলেন, ‘প্রতিটি রোজায় এভাবে বিনামূল্যে ইফতার করালে গরিবদের জন্য উপকার হবে। আমি দোয়া করি তাদের জন্য, যারা আমাদের মতো গরিব-অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ নিয়েছেন।’
আরেক রিকশাচালক রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমি আজকে প্রথম এখানে ইফতার করতে আসছি। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। কারণ রোজার মাসে চাইলেও দিনের বেলা বেশি রিকশা চালাতে পারি না। তাই রোজগার কম হয়। দিনশেষে বিনামূল্যে এত ভালো মানের ইফতারি করতে পেরে আমরা খুশি।’
সরাইখানার এই ইফতার বিতরণের জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন প্রায় ১০ জন। এই ১০ জনের সবাই কিন্তু সংগঠনের সদস্য নন। প্রতিটি এলাকাভিত্তিক আলাদা আলাদা স্বেচ্ছাসেবক থাকেন। এই কাজের জন্য প্রতিদিন সেভ সিলেটের ফেসবুক পেজে স্বেচ্ছাসেবী চেয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে সরাইখানার স্থান উল্লেখ করে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহীরা আসেন।
সেভ সিলেটের কো-অর্ডিনেটর দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের সংগঠনের অন্যতম একটি প্রজেক্ট হলো ‘সরাইখানা’। ২০২০ সালে করোনার সময় আমরা এই প্রজেক্টটি শুরু করি। আমাদের টার্গেট হচ্ছে প্রতিবছর রমজান মাসে ১ লাখ মানুষকে খাবার সরবরাহ করা। আমরা সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ইফতারের আয়োজন রাখছি। এ ছাড়া সাহরির সময় সিলেটের বিভিন্ন পয়েন্টে অসহায় মানুষদের খাবার দিচ্ছি।”
সরাইখানার খাবারের ফান্ডিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একা কিছু করছি না, সবার সহযোগিতা নিয়ে মানুষের সেবা করছি। সরাইখানাতে মানুষকে খাওয়ানোর জন্য কেউ আমাদের চাল দিচ্ছেন, কেউ মাংস দিচ্ছেন, কেউ রান্না করার লাকড়ি দিচ্ছেন, কেউ আলু দিচ্ছেন, আবার কেউ তেল ও পেঁয়াজ দিচ্ছেন। দেশ ও দেশের বাইরের প্রবাসীরা এ কাজে সহযোগিতা করছেন। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের পাশে থাকার জন্য।’
