- মার্চ ৫, ২০২৬
- লিড নিউস
- 82
হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শেরখাই ও নরখাই নদী খননের ছয় কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নীরবতা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নবীগঞ্জের দীগলবাক ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ হাসান দোলনকে সভাপতি করে শেরখাই ও নরখাই নদী খননের জন্য জাইকার ৬ কোটি ১২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প কমিটি গঠন করা হয়।
দলটির পতনের পর বিএনপি, এনসিপি ও জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা প্রকল্পটির নিয়ন্ত্রণ নেন। তবে কাজ পরিচালিত হচ্ছে আগের যুবলীগ নেতা দোলনের গঠন করা কমিটির মাধ্যমেই।
প্রকল্প অনুযায়ী নদী দুটি ১০ ফুট গভীর করে খননের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট গভীর করে খনন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে বিল অনুমোদনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০ ফুটের জায়গায় ২-৩ ফুট গভীর করে খনন করে বর্ষার অপেক্ষা করা হচ্ছে। বর্ষাকালে নদীতে পানি উঠলে প্রকৃত গভীরতা বোঝা যাবে না। আর খরচের টাকা তোলা হচ্ছে নদী থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রি করেই।
সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকরা খননকাজের ছবি তুলতে গেলে সাইটে উপস্থিত শাহান চৌধুরী নামে এক তরুণ তাদের বাধা দেন এবং মারমুখী আচরণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ছাদিক মিয়া বলেন, প্রকল্প কমিটির সদস্যরা কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণে। ১০ ফুটের জায়গায় মাত্র ২-৩ ফুট গভীর করে খনন করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রতিবাদে লিখিত অভিযোগ ও মানববন্ধন করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সবার যোগসাজশেই প্রকল্প লুটের আয়োজন চলছে।
জালাল উদ্দিন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, যে পরিমাণ খনন করা হচ্ছে, তা এক মৌসুমেই ভরাট হয়ে যাবে।
এতে নদী খনন কর্মসূচির কোনো সুফল মিলবে না।
মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, সরকারি প্রকল্পের খাল খননের সময় নিয়ম অনুযায়ী মাটি পাশে রাখার কথা থাকলেও তা অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ২-৩ ফুট গভীর খননে কোনো লাভ নেই, ১ বছরের মধ্যেই সব ভরাট হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্পের সভাপতি খালেদ হাসান দোলন বলেন, আমরা সরাসরি কাজ করছি না। টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার কাজ করছে। কোনো অনিয়ম হলে তা উপজেলা প্রকৌশলী অফিস দেখবে। সমিতির অফিস পরিচালনার জন্য আমরা কিছু কমিশন নিয়েছি।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি সভাপতি হলেও কাজ করছেন ঠিকাদার ও প্রকৌশলী অফিস। তারা আমাদের সমিতিকে একটি লভ্যাংশ দেবেন। অনিয়ম হলে তারাই জবাব দেবেন। মাটি বিক্রির বিষয়ে আমি জানি না। তবে এলাকার কিছু মানুষ আমাদের অনুমতি নিয়ে নিজের প্রয়োজনের জন্য মাটি নিয়েছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের প্রকল্পের দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী সিরাজ মোল্লা বলেন, সব বিষয় আমার জানা নেই। আমাদের তদারকির দায়িত্ব আছে, তাই দেখছি। কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিস্তারিত জানতে হলে অফিসে আসতে হবে।
