• আগস্ট ৬, ২০২৬
  • শীর্ষ খবর
  • 28
সিলেটে ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের একাংশ আড়াল করে সিসিকের ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনবোর্ড!

নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের একাংশ আড়াল করে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ‘আই লাভ সিলেট’ নামে একটি সাইনবোর্ড নির্মাণকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সিলেটের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বেশিরভাগ নগরবাসী মনে করছেন নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের নামে এই সাইনবোর্ড সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক কিনব্রিজকে ঢেকে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট সার্কিট হাউসের বিপরীতে সুরমা নদীর তীরে আই লাভ সিলেট নামে সাইনবোর্ডের নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সাইনবোর্ডের মূল্য কাজ শেষে হয়েছে। তবে এখনো সাইনবোর্ডের আশপাশের আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। এই সাইনবোর্ডে ‘আই লাভ সিলেট’ লেখার পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশন ও গ্রামীণ ফোনের লোগো রয়েছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখক মনোয়ার পারভেজ লিখেন, ‘সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজকে একপাশ থেকে ঢেকে (সার্কিট হাউজের দিক থেকে) তৈরি করা হয়েছে এই ‘উথলে পড়া ভালোবাসা’ সংযুক্ত বোর্ড বা ফলক। যা দর্শনার্থীদের জন্য কিনব্রিজের অর্ধেক সৌন্দর্যই নষ্ট করে দিয়েছে! এই বোর্ড বা ফলক বসানোর জন্য কি সিলেটে আর কোনো জায়গা ছিল না?’

সংস্কৃতিকর্মী কুয়াশা রুবেল লেখেন, ‘এক মাথামোটা বলদের মাথা থেকে এটার ডিজাইন বের হয়েছে আর আরেক মাথামোটা বলদ এটার কাজের অনুমোদন দিয়েছে।
পুরো ব্রিজের দৃশ্য আটকে ফেলেছে।’

সাংবাদিক ও নাট্যকর্মী জয়ন্ত কুমার দাস লেখেন, ‘সিলেটে শতবর্ষী ঐতিহ্য ঢেকে এই নামপ্লেট নির্মাণ কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? আর সিলেটের ব্রান্ডিংয়ে একটা কোম্পানির স্পন্সর থাকবে কেন? সিটি কর্পোরেশন কি গরিব হয়ে গেল নাকি? আরো খালি জায়গা আছে সেখানে এটি স্থানান্তর করা যেতে পারে। যেমনঃ বনবিভাগের অফিসের অপজিটে করা যেতে পারে,পেছনে সুরমা থাকলো,সামনে সিলেটের ব্র্যান্ডিং,এটা ভালো হয়।’

নাট্যকর্মী ডিএক্সএন মাসুম খান লিখেছেন, ‘ঐতিহ্যবাহী ব্রিজ ঢেকে এই বিশ্রী জিনিস স্থাপনের আগে একবারও কি কারও মতামত নেওয়া দরকার ছিল না?’

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এই সাইনবোর্ডের ব্যাপারে সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিনব্রিজের সৌন্দর্য যেন ঢাকা না পড়ে তা নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে সাইনবোর্ডের স্থানও পরিবর্তন করা হবে। নগরবাসীর দাবীকেই আমরা সমসময় গুরুত্ব দেবো।

উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘতম নদী সুরমার বুকে প্রথম সেতু ‘কিনব্রিজ’। ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত লোহার কাঠামোয় ধনুক আকৃতির সেতুটি এখনও সচল। সুরমা নদী বিভক্ত সিলেট নগরীর সংযোগে কিনব্রিজ একটি প্রতীকও। দেড়শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়িঘর আর চাঁদনিঘাটের সিঁড়ির পাশে কিনব্রিজ এক নজর দেখলেই দেশে ও বিদেশে সিলেট নগরী চেনার মধ্যে আসে। নদীর উত্তর ও দক্ষিণ পারের বাসিন্দাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয় সেতুটির। ১৯৩৬ সালে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। লোহা দিয়ে তৈরি এর আকৃতি অনেকটা ধনুকের মতো। দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৮ ফুট। আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্নর মাইকেল কিনের নামে সেতুর নামকরণ হয় ‘কিনব্রিজ’। ধীরে ধীরে সিলেটের পরিচিতির অংশ হয়ে ওঠে সেতুটি। বর্তমান পর্যটননগরী সিলেটে পর্যটকদের প্রিয় একটি স্থান হলো এই কিনব্রিজ। ব্রিজের পাশে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলেই পর্যটকরা সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে জানান দেন তারা সিলেটে এসেছেন। সিলেটের প্রতীকখ্যাত কিনব্রিজটির কাঠামো দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই এটি সংস্কারের মাধ্যমে সচল রাখা হয়।এই সেতু স্থাপনের শতক পূর্তির আগে ঐতিহ্য সুরক্ষায় সচল রাখতে একাধিকার পদচারী সেতুতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।