• সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
  • লিড নিউস
  • 11
সিসিকে পানি চাইতে গিয়ে জেলে গেলেন তিন যুবক

নিউজ ডেস্কঃ প্রায় ১০ দিন ধরে পানি নেই সিলেট সিটি করপোরেশনের জল্লারপার এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা পানি সংকট নিরসনের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কলস, বালতি, জগ নিয়ে পানি পাওয়া দাবী জানিয়েছিলেন জল্লারপার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। সেসময় সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) কর্মরত লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডার জেরে ৬ জনকে আটকে পুলিশে দেয় সিসিক কতৃপক্ষ। আটক ৬ জনের মধ্যে তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা নগর ভবনে ঢুকে ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে পানিপ্রত্যাশী জল্লারপারের বাসিন্দাদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন, কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। অন্যায়ভাবে মিথ্যা অভিযোগে ছয়জন যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সিসিকে গিয়েছিলেন জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা, সিলেট কল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের। তিনি বলেন, আজ প্রায় দশ দিন হয় এলাকায় পানি নেই। এক সাপ্তাহ আগে আমরা কয়েকজন গিয়ে একবার পানি শাখায় অভিযোগ দিয়ে আসছি। তার বললেন পরেরদিন আসবেন। কিন্তু কেউ আসেননি। আমরা বাধ্য হয়ে কলসি, বালতি নিয়ে সিসিকে যায়। আমরা শান্তিপূর্ন অবস্থান করছিলাম। তখন সিসিকের কর্মরত কয়েকজন এসে আমাদের তিনতলায় নিতে চান। আমরা যেতে না চাইলে সিসিকের কয়েকজন জোর করে আমাদের সাথে থাকা ৬ জনকে সিসিকের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে যায়। এরপর সিসিক প্রশাসক এসে বললেন তোমার চলে যাও না হয় তোমাদেরও আটকে ফেলবো।

তিনি বলেন, সিসিক প্রশাসকের রীতিমতো আমাদের থ্রেড দিলেন। তার ভাষ্যমতে পানি চাইলে জেলে যেতে হবে। এবং তার এই থ্রেড শুধুমাত্র যে জল্লারপারের বাসিন্দাদের জন্য তা কিন্তু না। সিসিক প্রশাসকের এই থ্রেড নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য। আজকে পানি চাইতে গেলে জেলে যেতে হয়। সিসিকের ইতিহাসে এমন প্রশাসক আর কেউ ছিলেন না।

এদিকে সিসিক জানায়, বৃহস্পতিবার জল্লারপার এলাকার প্রায় ২৫ জন বাসিন্দা খালি কলস ও বালতি নিয়ে দুপুরে নগর ভবনে যান। তারা পানির সংকটের সমাধান চেয়ে ষষ্ঠ তলায় পানি শাখার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে একপর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। করপোরেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, উত্তেজিত কয়েকজন যুবক সিসিক ভবনের নির্মাণাধীন অংশের ইট-পাটকেল ছুড়লে বেশ কয়েকটি কাঁচের জানালা ভেঙে যায়। পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছয়জনকে ধরে নিচে নামিয়ে নিয়ে আসেন এবং পুলিশ ডেকে তাদের সোপর্দ করেন।

তবে এই সিসিকের এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমান দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের। তিনি বলেন, আমরাতো খালি কলস, জগ নিয়ে গিয়েছি। আমাদের সাথেতো ইট পাথর ছিল না। আমরা কিভাবে ইটপাটকেল দিয়ে হামলা করবো। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তিনজন দিনমজুর মানুষকে জেলে দিয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে মূলত নগরে ঠিকভাবে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এটা শুধু জল্লারপার না সব এলাকতে হচ্ছে। তাই বলে অফিসে ঢুকেতো কেউ হামলা করতে পারে না। হামলা করার কারনেই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দারস্থ হয়েছি।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মো. মনজুরুল আলম বলেন, সিসিক কর্তৃপক্ষ ৬ জনকে আটকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তাদের মধ্যে ৩ জনকে আদালতের মাদ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এবং ৫ জনের নামে এজাহার দাখিল করা হয়।

এ ব্যাপারে কথা সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি। সূত্র: খবরের কাগজ