• অক্টোবর ৩০, ২০২৬
  • শীর্ষ খবর
  • 1
সুনামগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (১৯) নামে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রিন্স সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তিনি সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া গ্রামের শাহরুখ রাজা চৌধুরীর ছেলে। বর্তমানে তারা সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

পরিবারের দাবি, থানায় নেওয়ার পর প্রিন্স অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়া হয় তাকে। তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি রতন শেখ।

যে রাতে সুনামগরেঞ্জ পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠেছে, ওইদিন পুলিশ হেফজতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হান আহমদ হত্যা মামলার রায় প্রদান করেন সিলেটের একটি আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘আটক অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করার অধিকার পুলিশ কিংবা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেই। কোনো ব্যক্তি দুর্ধর্ষ অপরাধী হলেও বিচার ছাড়া তাঁকে শাস্তি দেওয়ার অধিকারও কারও নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেই আইনের শাসনের প্রকৃত পরীক্ষা হয়।’

শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সের পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া আবাসিক এলাকার বাসা থেকে শাহনেওয়াজ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। থানায় নেওয়ার পর শারীরিক নির্যাতনে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে শাহনেওয়াজ চৌধুরী পুলিশকে বলছেন, ‘স্যার আমি কয়দিন পর আত্মসমর্পণ করবো।’ জবাবে পুলিশ বলছেন, ‘বোকা ছেলের মতো কথা বলো। দুদিন পরে তুমি পাশ করলে আমরা মিষ্টি খাওয়াবো, সমস্যা নাই।’ শাহনেওয়াজ তাঁর ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার কথা বললে পুলিশ বলে, ‘ক্যারিয়ার তো এমনিইে নাই। ক্যারিয়ার তো শেষ হয়ে গেছে।’

শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী জানান, গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর মডেল থানার এস আই জাকারিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সুনামগঞ্জের নতুনপাড়া বাসায় যান। সদর থানার ওসি রতন শেখের সাথে দেখা করানোর কথা বলে ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। পরে রাত প্রায় দেড়টার দিকে তিনি পরিচিত একজনের কাছ থেকে জানতে পারেন ছেলে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে আছে। পরে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান তারা। রাতেই মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় সুবিদবাজারের কুইন্স প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত ছেলে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে জানিয়েছেন শাহনেওয়াজের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী।

ছেলে রাজনীতির সাথে জড়িত না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার ছেলে এ বছর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। এর আগে মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়েছিল তাকে। জেল থেকে সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বর্তমানে জামিনে থাকা সত্বেও বাসা থেকে ধরে নিয়ে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে আমার ছেলেকে আহত করে হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়। আমি আমার ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

থানায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। মামলার আসামি হিসেবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার শরীর খুব দুর্বল, তার পুরনো খিচুনি রোগ রয়েছে। রাতে সে অসুস্থ্ হলে তাকে প্রথমে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু তার পরিবার তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন। পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছে সে।