• মার্চ ১৩, ২০২৬
  • মৌলভীবাজার
  • 10
৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতে চায়ের দেশে ফিরেছে প্রাণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে ফিরেছে স্বস্তি। প্রুনিং করা (ছাঁটাই করা) চা গাছে দ্রুত দেখা দেবে দুটি পাতা একটি কুঁড়ি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বৃষ্টির ফলে চা বাগানে এতদিনের খরাজনিত তাপমাত্রার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে চা গাছগুলো।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) শ্রীমঙ্গলে দুই দফায় ৩৬ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

এ বৃষ্টি শ্রীমঙ্গলের চা শিল্পাঞ্চলের চা উৎপাদক মহলে স্বস্তি এনে দিয়েছে। চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১ জানুয়ারি নতুন চা মৌসুম শুরু হওয়ার পর চা শিল্প এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে খরার কবলে পড়েছিল চা বাগানগুলো।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ৩.৮ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩২.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল মামুন জানান, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও খরা চা উৎপাদনের বড় চ্যালেঞ্জ। শুক্রবারের বৃষ্টিপাত চা বাগানে সজীবতা ফিরে আনবে। এর ফলে চা প্রকৃতিতে ফিরছে প্রাণ।

চা গাছের সঠিক বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য বৃষ্টিপাত একটি অপরিহার্য উপাদান, যা চা গাছকে আর্দ্রতা সরবরাহ করে। চা গাছের বৃদ্ধি ও চা পাতা উৎপাদনের জন্য আদর্শ বৃষ্টিপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ২০০০ মিমি. এর বেশি বার্ষিক বৃষ্টিপাত আদর্শ ধরা হয়।

তিনি আরও বলেন, চা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য বৃষ্টিপাতের মাসিক বণ্টন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং চায়ের মৌসুমে তা কমপক্ষে ১০০ মিমি থাকা বাঞ্ছনীয়। মাসিক বৃষ্টিপাত ১০০ মিমি এর কম হলে চা গাছ খরায় টিকতে পারে না।

একটি পরিণত চা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য দৈনিক ১.৩ মিমি (শীতকালে) ও ৬ মিমি (গ্রীষ্মকালে) পানির প্রয়োজন হয়। খরা মোকাবিলায় বেশিরভাগ চা বাগানে স্প্রিঙ্কলার ইরিগেশনের মাধ্যমে সেচ প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে অনেক বাগানে পানির উৎস বা জলাধার না থাকায় সেটিও সম্ভব হয় না। তাই চা বাগানে প্রাকৃতিক বৃষ্টি অনেক উপকারী।

হঠাৎ বৃষ্টির এই উপকারিতা সম্পর্কে এ চা গবেষক ড. শামীম আল মামুন আরও বলেন, অনেক দিন অনাবৃষ্টির পর চা বাগানে বৃষ্টি চা গাছের জন্য উপকার বয়ে আনবে। বৃষ্টির কারণে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা যোগ হবে এবং গাছ প্রয়োজনীয় পানি ও খাদ্যোপাদান সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। বৃষ্টিপাতের ফলে চা বাগানে লাইট প্রুনিংকৃত (ছাঁটাই করা) চা গাছগুলোতে দ্রুত নতুন কুঁড়ি চলে আসবে। হালকা ছাঁটাই করা চা গাছগুলোতে ফিরে আসবে সজীবতা।