• অক্টোবর ২১, ২০২৬
  • লিড নিউস
  • 3
বৃক্ষ লেন এখন ‘বিলবোর্ড লেন’, সংবাদ প্রকাশের পর পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক

নিউজ ডেস্কঃ সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় সড়ক বিভাজকে মাত্রাতিরিক্ত বিলবোর্ড স্থাপন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ওই সড়ক বিভাজক পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সিসিকের বিজ্ঞাপন শাখার কর্মকর্তাকে নিয়ে ওই সড়ক পরিদর্শন করেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এসময় সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট করে ঘনঘন বিলবোর্ড স্থাপনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক বলেন, বিলবোর্ড এই যেভাবে রাখা হয়েছে সেটা সঠিক পন্থা নয়। এতো ঘন ঘন দেওয়া ঠিক না। আমি আজকে বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে এসেছি। তারা বিষয়টি দেখবেন। বিলবোর্ডের সাইজ ছোট করে ও সংখ্যা কমিয়ে লাগাত হবে। নগরবাসীর সুবিধা ও নগরের সৌন্দর্যের বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

এরপর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর ফেসবুক পেজ থেকে এই সড়ক পরিদর্শনের একটি ভিডিও যুক্ত করে লেখা হয়- ‘অবকাঠামো নির্মাণ নয়; নগরীর সৌন্দর্য, পরিবেশ ও নাগরিকদের স্বস্তি রক্ষা করাও উন্নয়নের অংশ। যারা নিয়মের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন, তাদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা—নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করে কেউ নিজের স্বার্থ হাসিল করবেন, তা হতে দেওয়া যায় না। নিয়মবহির্ভূত স্থাপনার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিলেট আমাদের সবার। এই শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় আপসহীন থাকতে চাই।’

এরআগে মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বৃক্ষ লেন হলো ‘বিলবোর্ড লেন’’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেট নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন বৃদ্ধির জন্য পাঠানটুলা এলাকায় ‘বৃক্ষ লেন’ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সবুজায়নের বদলে সেখানে স্থাপন করা হচ্ছে বাণিজ্যিক বিলবোর্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃতির ছোঁয়া দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বৃক্ষ লেনের নামে জায়গাটিকে ‘বিলবোর্ড লেনে’ পরিণত করা হয়েছে। শহর খুঁজুন

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, ছয়-সাত মাস আগে বাংলাদেশ বিলবোর্ড অ্যাডভার্টাইজিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে সিসিক এক বছরের জন্য পাঠানটুলা এলাকার সড়ক বিভাজক লিজ দেয়। গাছ লাগানো, লাইটিংসহ ওই জায়গা সৌন্দর্যবর্ধনের শর্তে তিনি লিজ নেন। পাশাপাশি ২০টি মিনিপোল (রাস্তার পাশে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মাঝারি আকারের বিলবোর্ড) স্থাপনেরও অনুমতি নিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাঠানটুলা এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার সড়ক বিভাজকে দাঁড়িয়ে রয়েছে ২৬টি ৬ বাই ৪ ফুটের স্টিল দিয়ে তৈরি বিলবোর্ড। সিসিকের তথ্য অনুযায়ী, লিজ গ্রহীতা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিনিপোলের অনুমতি নিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী, মাটি থেকে মিনিপোলের মূল বিজ্ঞাপন বোর্ডটির উচ্চতা ২০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হওয়ার কথা। তবে এখানে সেই নিয়ম মানা হয়নি। মাটি থেকে মাত্র ৪ ফুট উচ্চতায় বিলবোর্ডগুলো স্থাপন করা হয়েছে। গাছ রোপণের কথা থাকলেও নামমাত্র কিছু পাতাবাহার ও সৌন্দর্যবর্ধন গাছ লাগানো হয়েছে, যেগুলো সড়ক বিভাজকের জন্য উপযুক্ত না। বিলবোর্ডের কারণে এগুলো এরই মধ্যে আড়ালে চলে গেছে।

ওই প্রতিবেদনে এলাকাবাসী দাবী করেন, দ্রুত অতিরিক্ত বিলবোর্ডগুলো অপসারণ করে পাঠানটুলায় প্রকৃত অর্থে পর্যাপ্ত গাছ রোপণ ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সিলেট সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।